এফএনএস : পূর্ব ইউক্রেনে সেনা পাঠানো এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে রাশিয়ার স্বাধীন দেশ ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো ইতোমধ্যে রাশিয়ার ওপর নানা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এ দিকে পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থায় আছে উপমহাদেশের শক্তিধর দেশ ভারত। প্রতিক্রিয়া দেখানোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ভারত খুবই সতর্ক রয়েছে।
এমনকি দেশটি সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনাও করছে না। বরং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে আসছে দেশটি। খবর বিবিসি অনলাইনের। ইউক্রেন সংকটে ভারত সুস্পষ্ট অবস্থান নেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো এমনটাই আশা করবে। কিন্তু নানা কারণে দিল্লির সেই সামর্থ্য নেই। এর মধ্যে একটি হলো, মস্কো অনেকদিন ধরে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। এ ছাড়া দেশ দুটি একে অপরের দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত বন্ধু।
সামনের দিনগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিলে ভারত পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর চাপের মুখে পড়বে। কিন্তু যখনই দেশটি কোনো একটি দেশকে বেছে নেওয়ার সংকটে পড়ে তখন সবসময় নিজেদের বিখ্যাত জোট-নিরপেক্ষ কৌশল অবলম্বন করে। তবে তেতে থাকা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার বোধহয় নিরপেক্ষ থাকার বিষয়টি দিল্লির জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
পশ্চিমারা যদি অত্যধিক চাপ প্রয়োগ করে তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বন্ধুর কূটনৈতিক পথেই হাঁটতে হবে। উল্লেখ্য, সোমবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মস্কো সমর্থিত বিদ্রোহীদের দখলে থাকা দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে ‘শান্তি রক্ষার জন্য’ সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এর আগে তিনি ইউক্রেন থেকে আলাদা হতে চাওয়া ওই অঞ্চল দুটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ওইদিন দিনভর জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন রুশ প্রেসিডেন্ট।