মঙ্গলবার

২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসীর রেমিট্যান্স দেশের অন্যতম আয় হলেও জনশক্তি রপ্তানিতে ধস রাজশাহী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে পশু নিতে পথে পথে দিতে হচ্ছে চাঁদা ভুয়া দলিলে অতিরিক্ত সম্পত্তি নামজারী মামলায় দলিল লেখক-শিক্ষক কারাগারে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭ পরিচ্ছন্নতাকর্মী টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের ১০ জন মান্দার, পরিবারে শোকের মাতম রাসিকের পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের চেক হিসাব বিভাগে হস্তান্তর রাজশাহী বিসিক-১ বিসিক-২ এর অচলবস্থা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আত্মশুদ্ধির নতুন অধ্যায় চামড়া সিন্ডিকেট-কোরবানীর পশু নিয়ে চাঁদাবাজি দেখতে চাই না : এমপি মিলন রামিসা হত্যার বিচার হবে এক মাসের মধ্যে, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

নওগাঁয় ধানের দাম কমলেও কমেনি চালের

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২১

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ : উত্তরাঞ্চলের শষ্যভান্ডার খ্যাত জেলা নওগাঁয় আমণ মৌসুমের শুরু থেকেই ধানের বাজার উর্ধ্বমুখী। ধানের বাজার বেশি হওয়ায় চালের বাজার বেড়েছে অস্বাভাবিক গতিতে। এরই মধ্যে চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে দেওয়ার খবরে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম কমেছে ১০০ টাকা। স্থানীয় বাজার থেকে মিলমালিকেরা (চালকলের মালিক) ধান কেনা কমিয়ে দেওয়ায় হতাশ কৃষক।

জেলার বিভিন্ন চালের মোকামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধানের বাজার বৃদ্ধির অযুহাতে গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও চিকন চালের দাম পাইকারী বাজারে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা এবং খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৮টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহুর্তে হঠাৎ ধানের দাম কমতে শুরু করলেও চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় খুচরা বাজারেও বেশি দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। শুধু মাত্র স্বর্ণাÑ৫ চালের দাম সামান্য কিছুটা কমেছে। তবে আমদানিকৃত চাল সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে বিতরন শুরু হলে চালের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় ২০১৭-১৮ সালের মতো নিয়ন্ত্রণহীন আমদানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাপক পরিমাণ চাল আমদানি হলে দেশের চালের বাজার অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মিলাররা চিন্তাভাবনা করে ধান কিনছেন। আমদানি করা চাল দেশের বাজারে ঢুকলে ভবিষ্যতে ধান-চালের বাজার কমে গিয়ে বড় ধরনের লোকসান হতে পারে এমন আশঙ্কায় ধান কেনা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিলাররা। গত ২৭ ডিসেম্বর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাল আমদানির শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। নতুন শুল্কহারে চাল আমদানি করতে আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন আমদানিকারকেরা।

নওগাঁর বড় ধানের মোকাম রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর হাট, মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়াহাট, মহাদেবপুর সদর ও উপজেলার মাতাজীহাট বাজার ঘুরে দেখা যায় ওই সব বাজারে মোটা জাতের স্বর্ণা-৫ ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকায়। যা পূর্বে বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ১ হাজার ১৬০ থেকে ১ হাজার ১৭০ টাকায়। আর গুটি স্বর্ণা (স্বর্ণা-৫১) ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০ থেকে ১ হাজার ৪০ টাকায়। যা পূর্বে বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ১৩০ টাকায়।

রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, সংসারিক প্রয়োজনে অভাব ১০ মণ হাটে ধান বিক্রি করতে এসেছি। আগে যে ধান ১ হাজার ১৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। সেই ধান এখন ১ হাজার ৩০ টাকা মণ বিক্রি করতে হলো। হুট করে ধানের দাম এতো কমে যাবে আগে বুঝলে ধান ঘরে রাখতাম না।

মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক শাহাদত হোসেন বলেন, পোকামাকড়ের আক্রমণে আর নকল কীটনাশকের কারনে এমনিতেই জমিতে এবার ধানের ফলন পূর্বে চেয়ে অর্ধেক হয়েছে। এরই মধ্যে ধানের দাম প্রতি মণে ১শ টাকা কমে গেছে। ধান বিক্রি করতে এসে আপসোস হচ্ছে। আমাদের কাছে ১শ টাকা কমে যাওয়া মানেই অনেক বড় লোকসান।

আবাদপুকুর বাজারের ধানের আড়তদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, চাল আমদানির খবর শোনার পরপরই অনেক মিলার আড়তদারদের জানিয়ে দিয়েছেন তারা আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ গাড়ি ধান কিনতেন, এখন সেখানে এক থেকে দুই গাড়ি ধান কিনবেন। এছাড়া প্রশাসন ধান-চালের অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। গুদামে ধানের মজুত রাখলে যেকোনো মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করতে পারেন। এ অবস্থায় আমি ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছি। আমার মতো অন্য আড়তদারদেরও একই অবস্থা।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, সরকার চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে দিবে এমন খবরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা চাল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এতে মোকামে চাল বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে। ইতিমধ্যে মিলগেটেও চালের দাম বস্তা প্রতি ১০০-১৫০ টাকা কমে গেছে।

নওগাঁ ধান্য-চাউল আড়ৎদার সমিতির সভাপতি নিরোধ বরণ সাহা চন্দন বলেন,সরকার ঘোষণা দিয়েছে চাল আমদানির শুল্ক প্রায় ৩৭ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে যা চালের বাজার উদ্ধোগতি ঠেকাতে অনেকটায় কাজে দেবে। তবে আমদানীকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রনেও রাখতে হবে। ২০১৭-১৮ সালের মতো নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চাল আমদানি হলে ধানের দাম ২০১৮-১৯ সালের মতো ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় নেমে আসতে পারে। এ অবস্থায় আমাদের প্রস্তাব হলো সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানি করুক। তবে আমদানী যেন নিয়ন্ত্রিত হয়। দেশে যতটা চালের প্রয়োজন রয়েছে কেবল ততটুকুই যেন আমদানি করা হয়। নিয়ন্ত্রণহীন আমদানি কৃষকদের কপালে আবারো দুর্দিন নেমে আনতে পারে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris