শাহজালালে উদ্ধার হলো ১২ কেজি ওজনের ৪টি স্বর্ণের বার

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১

এফএনএস : শিডিউলবিহীন ফ্লাইটগুলোতে চোরাচালানের ঘটনা বেশি ঘটে। আর এসব ফ্লাইটকে সাধারণত ট্র্যাক করে থাকে কাস্টমসের গোয়েন্দারা। এরই ধারাবাহিকতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মিলে প্রায় ১২ কেজি ওজনের চারটি স্বর্ণের বার। গতকাল সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. আবদুর রউফ এ কথা জানান। এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিজি-৪১৪৮ থেকে ওই স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য আট কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ডিজি জানান, চোরাচালানের সংবাদের ভিত্তিতে সকালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবস্থান নেয় কাস্টমস গোয়েন্দা বিভাগ। রাত ৯টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। এরপর এতে তল্লাশি চালায় বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দারা। এ সময় বিমানটির কার্গো হোলের (যেখানে মালামাল রাখা হয়) মাঝে স্কচটেপে মোড়ানো তিনটি প্যাকেটে মেলে চারটি স্বর্ণের বার। কার্গো হোলের ভেতরে বিমানের ক্রু কিংবা যাত্রী কেউ যেতে পারে না। প্লেনের নিচ থেকে এখানে রাখা হয় মালামাল। যার সুযোগ নেয় চোরাকারবারিরা।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্লেনের কোনো কর্মচারী জড়িত কি না প্রশ্নে ডিজি আবদুর রউফ বলেন, আমরা বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মচারীদের তথ্য চেয়েছি। তারা দিলে আমরা সেটা পুলিশকে হস্তান্তর করবো। তিনি আরও বলেন, আমরা প্লেনটি আটক করেছিলাম। সাধারণত যেসব বাহনে চোরামাল উদ্ধার হয় যেখানে যানবাহন ও মালামাল দুইটাই জব্দ হয়। কিন্তু বিমানটির একটু পরই জেদ্দায় রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল। আর আমাদের আটকের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো দেরি হয়ে যায়। এ ছাড়া প্লেনে ৩০০ জনের ফ্লাইট ছিল। সে কারণে আমরা এটিকে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য জামিন দিয়েছি।

সুকৌশলে স্বর্ণ বারগুলো অবৈধভাবে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়। যা পরবর্তীতে যে কোনো পথে বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল বলে জানান কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ডিজি। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলা এবং একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি। পার্শ্ববর্তী দেশ স্বর্ণ চোরাচালানের রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে উল্লেখ করে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুর রউফ বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, তারা তিনটি জিনিস খুব পছন্দ করে।

সিনেমা, ক্রিকেট, গোল্ড। তারা প্রচুর গোল্ড ব্যবহার করে। সারা পৃথিবীতে যে পরিমাণ গোল্ড ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয় তার ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় ভারতে। তিনি বলেন, আমরা এত পরিমাণ চোরাচালান ধরি আর এতে কোটি টাকা তাদের লস হয়। তবুও তারা এই কাজ করে যাচ্ছে। তাহলে বলা যায়, এরপরও তাদের লাভ আছে এখানে। ড. আবদুর রউফ বলেন, আমাদের দেশের জুয়েলারি মালিক সমিতি স্বর্ণ আমদানিতে ভ্যাট, ট্যাক্স কমাতে বলে। তাহলে তারা আমদানি করবে। কিন্তু আমরা এতে যুক্তি দেখি না। যেখানে ওষুধ আমদানিতে ১৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, রেস্টুরেন্টে গেলে ভ্যাট দিতে হয়, সেখানে স্বর্ণ আমদানিতে কেন ভ্যাট কমাবো?

তিনি আরও বলেন, আমাদের পাশের দেশে এমন গায়ক আছেন যিনি কেজি পরিমাণ স্বর্ণ নিজের শরীরে ব্যবহার করেন। কিন্তু তারা তাদের ট্যাক্স, ভ্যাটের পরিমাণ কমায় না। তাদের রুলস আরও অনেক কঠিন। পৃথিবীর অনেক দেশে আমাদের তুলনায় অনেক বেশি ভ্যাট। এটা আরও বাড়াতে হবে কিন্তু কমানোর সুযোগ নেই। এদিকে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৯৬৪ কেজি স্বর্ণ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৭৪ দশমিক ৪৯ কেজি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮০ দশমিক ৩৫ কেজি স্বর্ণ আটক করা হয়।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris