শনিবার

৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমানে ২৮ জনকে পুশইনের আপচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা-প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির সাহায্যে ভুল-অপতথ্যের প্রচার মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

বাগমারার হাটমাধনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন দুর্নীতির আখড়া

Paris
Update : বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারার হাটমাধনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না সেখানে। ওই ভূমি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে রয়েছে গোবিন্দপাড়া, নরদাশ ও সোনাডাঙ্গা এই তিনটি ইউনিয়নের জমির খাজনা আদায়ের নামে ঘোষ-দূর্নীতির মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্য, ক্ষমতার ব্যাপক দাপট এবং জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিতে আসা লোকজনের সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সরজমিনে তদন্ত করে তার প্রতিকার চেয়ে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকবাসীর পক্ষে অভিযোগটি করেছেন রাজশাহী জেলা পরিশদের সদস্য ও নরদাশ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ। ওই অভিযোগপত্রে এলাকার অর্ধশতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগমারার গোবিন্দপাড়া, নরদাশ ও সোনাডাঙ্গা এই তিনটি ইউনিয়নের জমির খাজনা পরিশোধ ও জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ প্রজাদের বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে হাটমাধনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ওই ভূমি অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা (তহশীলদার/নায়েব) সাজ্জাদ হোসেনের ঘোষ, দূর্নীতি ও ক্ষতার অপব্যবহারের কারণে ওই ভূমি অফিসের সেবার মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার কারণে ওই তিনটি ইউনিয়নের প্রজারা বর্তমানে সেবার বিপরিতে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন চরমভাবে।

অভিযোগে আরো দাবি করা হয়েছে, কোনো প্রজা ওই ভূমি অফিসে জমির খাজনা পরিশোধ করতে গেলে তার কাছে থেকে প্রকাশ্যে ২/৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। আর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ কেটে দেয়া হয় মাত্র ১০/১২ টাকার। বাঁকি পুরো টাকাই পকেটস্থ করেন ওই দূর্ণীতিবাজ তহশীলদার সাজ্জাদ হোসেন। তার এই অসৎ কাজে সহযোগীতার করার জন্য তিনি জনৈক নওশাদ আলী নামে এলাকার এক ব্যক্তিকে দালাল হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন। ওই দালাল ভূমি অফিসের কোনো কর্মচারী না হয়েও সে নিয়মিত অফিসে বসে খবরদারী করে থাকেন এবং তার মাধ্যমেই আদায় করা হয় ঘোষের টাকা। তার চাহিদা মতো টাকা না দিলে কারোই কোনো কাজ হয় না। কেউ তার চাহিদা মতো টাকা না দিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ওই তহশীলদার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই প্রজাকে অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি-ধামকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন।

নরদাশ ইউপি’র সদস্য আয়েন উদ্দিন, মামুনুর রশিদ ও মমিনুল ইসলাম বলেন, ওই নায়েবের বেপরোয়া ঘোষ-দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রুঢ় আচরণে এলাকার সবাই অতিষ্ঠ। তাই এলাকার প্রজাদের স্বার্থে তাকে এখান থেকে বদলির জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। নরদাশ ইউপি’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদও ওই তহশীলদারকে দ্রুত হাটমাধনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে বদলির দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত তহশীলদার সাজ্জাদ হোসেন তার বিরুদ্ধে অনিত অভিযোগুলো সঠিক নয় বলে অস্বীকার করেছেন। বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই নায়েবের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যহস্থা নেয়া হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris