সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম, হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে পরিবার মালয়েশিয়া থেকে চীনে প্রধানমন্ত্রী, সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশায় বেইজিং রামেবি আয়োজিত সেমিনারে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা

সরকার পদক্ষেপ নেয় জনগণ নিঃস্ব হওয়ার পর : হাইকোর্ট

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এফএনএস : সরকার পদক্ষেপ নেয় কিন্তু সেটা জনগণ নিঃস্ব হওয়ার পরে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। এহসান গ্রুপ, ই-ভ্যালিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। এ সময় দেশের গ্রাম পর্যায়ে সুদ কারবারিদের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটটি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন রিটকারী আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক।

শুনানিকালে আদালত বলেন, সরকার তো পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি (গ্রাহক) নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা (প্রতিকার) কোথায়। আমার টাকাটা নিয়ে গেলো, আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। সে থানায় যাবে, জেলে যাবে, যাক। কিন্তু আমার টাকাটা যে নিয়ে গেলো সেটা কোথায়? আমরা মামলা করার পর চোর ধরা পড়ছে। চুরি তো ঠেকানো যাচ্ছে না। আদালত বলেন, আমার বাড়ি কেন অরক্ষিত? আমার বাড়ি মানে বাংলাদেশ। দেশের মানুষ দরজা-জানালা বন্ধ করে শান্তিতে ঘুমাবে কিন্তু আমার ঘর কেন অরক্ষিত। মানুষের টাকা কেন লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে? এগুলো বন্ধ করা কাদের দায়িত্ব? এটা আমরা দেখতে চাই।

আমরা এটা পরীক্ষা করতে চাই। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক বলেন, সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। এহসান গ্রুপের ওই লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে, ই-ভ্যালির ওই লোককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত বলেন, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, তাদের আইনের শাসন, সবকিছু সুপ্রতিষ্ঠিত করা সরকারের দায়িত্ব। সেখানে সরকার ঠিকমতো কাজ করছে কিনা আমরা দেখবো। পরে মামলাটি শুনানির জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে বিভিন্ন গ্রাম-অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যেকটি এলাকায়, প্রতিটি গ্রামে সমবায় সমিতির নামে সুদের ব্যবসা চলছে। আবার অনেকে ব্যক্তিগতভাবে ঋণ দেওয়ার নামে উচ্চ হারে সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব ব্যবসার কোনও নিবন্ধন নেই। সাধারণ মানুষ এসব সুদ কারবারিদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে আদায় করা সুদের পরিমাণও আকাশছোঁয়া। ১০ হাজার টাকায় প্রতি সপ্তাহের সুদ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

কোনও কোনও ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা বা মাসে সুদ হিসেবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন তারা। রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত এসব সমবায় সমিতি ও সুদকারবারি থেকে ঋণ নিয়ে সুদের বোঝা টানতে টানতে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের চোখের সামনে তারা সুদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই সারা দেশের অনিবন্ধিত সুদের ব্যবসা বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris