সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম, হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে পরিবার মালয়েশিয়া থেকে চীনে প্রধানমন্ত্রী, সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশায় বেইজিং রামেবি আয়োজিত সেমিনারে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় জিয়াকে আসামি করতে চেয়েছিলাম : প্রধানমন্ত্রী

Paris
Update : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এফএনএস : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মামলায় আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। সেই সময় সচিব বলেছিলেন, মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা যায় না। আমার মনে হয় তাকে আসামি করা উচিত ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া ’৭৫ এর হত্যার সঙ্গে জড়িত, এতে তো কোনো সন্দেহ নেই। আমি তাকে আসামি করতে চেয়েছিলাম। তখন আমাদের হোম সেক্রেটারি ছিলেন রেজাউল হায়াত, তিনি বললেনÑ মৃত মানুষকে তো আসামি করা যায় না।

আমার মনে হয় নামটা থাকা উচিত ছিল। শেখ হাসিনা আরও বলেন, জিয়া যে ষড়যন্ত্রে জড়িত, সেটা ফারুক-রশিদ নিজেরাই বলেছেন, বিবিসি ইন্টারভিউতে। অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বইতে আছে, লরেন্স লিফশুলজের বইতে আছেÑ কীভাবে অস্বীকার করবে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদ নেতা বলেন, জিয়াউর রহমানের লাশের নামে চট্টগ্রাম থেকে একটি বাক্স সাজিয়ে-গুছিয়ে আনা হয়েছিল। তিনি বলেন, ওই বাক্সে জিয়াউর রহমানের লাশ ছিল না, এ বিষয়টি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত ও তৎকালীন সেনাপ্রধান মরহুম রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে কথা উঠছে। আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

৪০ বছর পরে নয়, জিয়ার মৃত্যুর সংবাদের পর তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়েবানা জানাজা হয়েছিল। কয়েকদিন পরে একটি বাক্স আনা হলো। এখানে কেউ একটা বুদ্ধি দিয়েছিল, আর জেনারেল এরশাদ তো এ বিষয়ে বেশি পারদর্শী। তিনি সাজিয়ে-গুছিয়ে একখানা বাক্স নিয়ে এসে দেখালেন। শেখ হাসিনা বলেন, তখন এ পার্লামেন্টে বারবার প্রশ্ন এসেছে, যদি লাশ পাওয়া যায় তার ছবি থাকবে না কেন? লাশ শনাক্ত করেছিল মীর শওকত। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে চিনতাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম সত্যি কথা বলেন তো? বলেছিলেন, লাশ কোথায় পাবো? জেনারেল এরশাদ সাহেবকে আমি বললাম, আপনি যে একটা বাক্স আনলেন? লাশটা কই? আমাকে তিনি বললেন, বোন লাশ পাবো কোথায়? আর কী বলবো। তিনি বলেন, লাশের কথা আমরা বারবার জানতে চেয়েছি।

তখনকার বিএনপির নেতারাও ছিলেন। তারা কী করে গেছেন, সেটা আপনারা দেখেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধু তাকে খেতাব দিয়েছেন। তা সবই সত্য। কিন্তু তার অবদানটা কী? মুক্তিযোদ্ধা চলাকালে কর্নেল আসলাম বেগ তাকে চিঠি লিখেছিল। ওই চিঠি আমার কাছে আছে। এ সংসদে সেটা তুলে ধরবো। সংসদের প্রসেডিংসের পার্ট হয়ে থাকা দরকার। শেখ হাসিনা বলেন, কর্নেল আসলাম বেগ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জিয়াকে একটি চিঠি দেয়, সেই চিঠিতে সে লিখেছিল, আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেওয়া হবে। খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি। অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে (জিয়া) তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, সেক্টর কমান্ডার নয়- বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিডিয়াতে কে, কী লিখল আর টকশোতে কী বললো, ওসব নিয়ে আমি দেশ পরিচালনা করি না। আমি দেশ পরিচালনা করি অন্তর থেকে। তিনি বলেন, আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছেন। দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য বছরের পর বছর তিনি জেল খেটেছেন। নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোর জন্য কী কাজ করতে হবে, যেটা শিখেছি আমার বাবার কাছ থেকে মায়ের কাছ থেকে, আমি সেটাই কাজে লাগাই। মানুষ তার সুফল পাচ্ছে কি-না, সেটা যাচাই করি। কে কী বললো, ওটা শুনে হতাশ হওয়া বা উৎসাহিত হওয়া আমার সাজে না, আমি করিও না। এটা হলো বাস্তবতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মানুষের একটা বদ অভ্যাস হয়ে গেছে, কথায় কথায় হতাশ হওয়া। আর যতই কাজ করি তারপরেও বলবে এটা হলো না কেন, ওটা হলো না কেন? আমি একটু বলব; এটা না বলে আগে কী ছিল আর কী আছে, সেটা দেখলেই তো হয়ে যায়। সেটা দেখতে পারবে না। শেখ হাসিনা বলেন, আছে কিছু লোক, আছে না? যাকে দেখতে নারী, তার চলন বাঁকা, এ অবস্থায় কিছু লোক ভোগে। আর কিছু লোক আছে হতাশায় ভোগে। সেটা নিয়ে আমার কোন.. ই নেই।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের দেওয়া ঘর নিয়ে দুর্নীতি বা অনিয়মের তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন কেন বন্ধ করেছে সেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার প্রশ্ন দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত বন্ধ করবে কেন। তাদের তো তদন্ত বন্ধ করার কথা না। তদন্ত চালু রাখতে হবে। দেখতে হবে এসব যারা ভাঙলো, তারা কারা; তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল? এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বলতে গেলে ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কম করে হলেও ১০ লাখ মানুষকে আমি ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এবারের যে ঘটনাটি ঘটেছে এখানে এক সংসদ সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। এটা আমরা তদন্ত করছি। দেখা হয়েছে ৯টি জায়গায় দুর্নীতি পেয়েছি আর দশ-বারোটি জায়গায় অতিবৃষ্টি হলো, সেই বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে ঘর পড়ে গেছে। সেখানে কিন্তু আরও অনেক ঘর ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ৩০০টি জায়গায় যেখানে প্রত্যেকটি ঘরের ছবি আমার কাছে আছে। পুরো তদন্ত করে দেখা গেছে, সেখানে দরজা-জানালার ওপর হাতুড়ির আঘাত। ফ্লোরগুলো খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তোলা হয়েছে। আমি আগামীতে সংসদের ছবি দেখাবো। ইটের গাঁথুনির পিলার ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটাতো দুর্নীতির জন্য হয়নি। এটা কারা করলো? তবে হ্যাঁ, কারা করেছে তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু অ্যারেস্ট হয়েছে, অন্যদেরও করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত বন্ধ করবে কেন? তাদের তো তদন্ত বন্ধ করার কথা না। তাদেরকে তদন্ত চালু রাখতে হবে। তদন্ত করে দেখতে হবে সেখানে যারা ভাঙলো তারা কারা। তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, কেন ভাঙলো। সেটা যদি দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে থাকে তাহলে তাদের তদন্ত করতে হবে।

একজন সংসদ সদস্য বললেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন নাকি বলছে আমরা আর তদন্ত করবো কী, প্রধানমন্ত্রী একথা বলেছেন।’ কিন্তু যে ভেঙেছে তার নিশ্চয়ই কোনও উদ্দেশ্য ছিল। এখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের তো এই কথা বলার কথা না। এই কথা যে কর্মকর্তা বলেছে যদি আমি জানতে পারি তাহলে তার ব্যাপারেও খোঁজ নিতে হবে। আমি দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলবো যে ৩০০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রত্যেকটা তদন্ত তাদের করতে হবে এবং রিপোর্ট দিতে হবে। এটাই আমার কথা। তিনি বলেন, আমরা গরিবকে ঘর করে দেবো; সেখান থেকেও টাকা মেরে খাবে। এখন কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে ঘর করে দিচ্ছি যাতে সহজে কেউ ভাঙতে না পারে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris