গোমস্তাপুর সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের মহানন্দা নদীর ভাঙ্গনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকশো পরিবার। ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর, উত্তর ইসলামপুর ও বালুটুঙ্গি এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে কয়েকশো বাড়ি নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মহানন্দা নদীতে এ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় নদীর কাছাকাছি থাকা বাড়িগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকাবাসী বিরাট সমস্যায় পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভাঙ্গন কবলিত ওই এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর এ সময় এলাকাবাসীকে চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেও কোন প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী বলে অভিযোগ করেন।
ওই এলাকার কৃষক রবু জানান, এরই মধ্যে নদীর ভাঙনে আমার বাড়ী সহ ৫-৬ টি বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। আমরা এখন চরম হতাশার মধ্যে দিন পার করছি। আমরা খুব অসহায়। দিন আনি দিন খাই। তাই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এ নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য। গৃহিণী আয়েশা বেগম বলেন, নদী ভাঙ্গনে আমাদের বাসার বাড়ির ২টি ছাগল সহ প্রায় ৫০ হাজার টাকার জিনিস নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। রাতে আমরা ঠিকমতো ঘুমোতে পারিনা, কখন যে পানিতে তলিয়ে যাবো এ ভয়ে। গৃহিণী নাসরিন বেগম ঠিক একই কথা বলেন। বৃদ্ধা সাজেদা বেগম বলেন, হারঘে দেখার কেহু নাই। হামরা সরকারের কাছে চাহাছি নদীটাকে বাইন্ধা দিক।
হামরা কোন সাহায্য চাহিনা, নদী বাইন্ধা চাহি। চৌডালা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারণে প্রতিবছরই ওই এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে থাকে। মাঝে মধ্যে কিছু জিও ব্যাগ ও বালির বস্তা দিয়ে প্রটেকশন দেয়া হয়। কিন্তু আশানুরূপ না হওয়ায় ভাঙ্গনের ঝুঁকি থেকে যায়। মাননীয় জেলা প্রশাসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহোদয় ইতিমধ্যে উক্ত ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সারোয়ার জাহান সুজন জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে অতি দ্রুত আমাদের একটি টিম ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যাবে তারপরে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমরা দ্রুত ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।