শাহজালাল তুহিন, রাবি : নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও সিন্ডিকেট না করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত আন্দোলন কারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষকে হুমকিও দিয়েছেন। এ অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বে) অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি। বিশ^বিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় রাবি প্রশাসন নগর পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা। শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার জন্য অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৩৭ জনকে দায়ী করা হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ে গত ৬ মে নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার দ্বন্ধ এখনও শেষ হয়নি। গত ৩১ মে উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ আমরা কয়েকজন কথা বলছিলাম। যারা কথিত চাকরি পেয়েছে তারা আমার বাসভবনের গেট উপড়ে ফেলে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অপ্রত্যাশিতভাবে অনুমতি ছাড়াই আমার নিজের ঘরে ৫০/৬০ জন ঢুকে খারাপ ভাষায় কথা বলে। আমি ভেতরে ছিলাম। দেখি আমার সন্তান ও স্ত্রী কাঁদছেন।
তারা ভয় পেয়েছে। বাসভবনে নিরাপদ মনে করছি না। তিনি আরও বলেন, আমার সহকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। এমনকি উপ-উপাচার্য নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। ফাইন্যান্স কমিটির সভা ও সিন্ডিকেট যাতে না হয় সেকারণে আন্দোলনকারীরা কোষাধ্যক্ষ, উপ-উপাচার্যকে হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, করোনায় দীর্ঘ সময় হল অব্যবহার্য অবস্থায় থাকা আবাসিক হলগুলো সংস্কারের প্রয়োজন।
এজন্য ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ সময়ে একটা বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছিলো শিক্ষামন্ত্রনালয়। হলগুলো সংস্কার করার জন্য আমরা গত ১৯ জুন ফাইন্যান্স কমিটির সভা আহবান করেছিলাম। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত আমারা ফাইন্যান্স কমিটির সভা করতে পারিনি। কারণ সিনেট, প্রশাসনভবন, উপাচার্য লাউঞ্জ তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সামনে একাডেমিক কাউন্সিল করতে হবে সেটিও কি হবে জানি না।
আন্দোলনকারীদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক বলে দাবি রাখেন তিনি। এছাড়া নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের আমরা আগেই জানিয়েছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া আমার দ্বারা কিছু করা সম্ভব নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যদি নির্দেশণা না আসে তাহলে রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্যের কিছু করার ক্ষমতা নেই।