১২ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

পবায় খাল খননের অব্যয়িত এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
পবায় খাল খননের অব্যয়িত এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকল্পের কাজ যতটুকু হয়েছে, ব্যয়ও হয়েছে ততটুকুই। বর্ষা ও অতিবৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খননকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বরাদ্দের অব্যয়িত অর্থ খরচ না করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে পবা উপজেলা প্রশাসন। রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বৈরাগীর খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “সরকারি প্রকল্পের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা। তাই এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বৃষ্টির কারণে যে কাজ করা সম্ভব হয়নি, সেই কাজের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পারিলা ইউনিয়নের জলিলের ভাটা থেকে ফলিয়ার বিল পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার বৈরাগীর খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়নের কথা ছিল। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে, মোট নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে খালে পানি বেড়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট অংশে খননকাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “৩ দশমিক ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৫৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অতিবৃষ্টির কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কাজের পরিমাণ অনুযায়ী ১ কোটি ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৯ টাকা অব্যয়িত থাকে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।”
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমে খালে পানি থাকায় অবশিষ্ট অংশের খননকাজ ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রকল্পের বাকি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের পর পানি নিষ্কাশনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেই এর সুফল পেতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা খাল পুনঃখননের উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন