৯ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রাজশাহী জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead, আইন-আদালত
রাজশাহী জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজশাহী জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (০৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় জেলা প্রমাসন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া-দূর্গাপর আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল, পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, উপ-পুলিশ কমিশনার, (সিটিটিসি) ভারপ্রাপ্ত, ও এডিসি মিডিয়া গাজিউর রহমান, পিপিএম ও রাজশাহী সিভিল সার্জন ডাক্তার এসএমআই রাজিউল করিমসহ জেলা প্রশাসন, নির্বাহী অফিসারগণ এবং সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, ডাকাতী দমন, ফুটপাত উদ্ধার, অবৈধ পুকুর খননে মামলা, সিসিটিভি স্থাপনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিগণ বলেন, বর্তমানে সব থেকে মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে যুব সমাজ ধ্বংসের দিক চলে যাচ্ছে। পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে কিশোররা নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তারা আরো বলেন, শহরের অপরাধ দমনে ব্যাপকভাবে সিসিটিভি স্থাপন করতে হবে। সেইসাথে জনগণের চলাচল নিশ্চিৎ করতে দখলকৃত ফুটপাত উদ্ধার করার পরামর্শ দেন। শুধু তাইনয় কেউ যদি অবৈধভাবে পুকুর খনন করে তাহলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, বর্তমানে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়ছে। কিন্তু মাদকের ভয়াবহ অত্যন্ত বেশী। এটা নিয়ে বেশী অশান্তি রয়েছে। এটা নিয়ে শুধু এখানে বসেই আলোচনা করা হচ্ছেনা। সারাদেশে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে। সেইসাথে আইনের পরিবর্তন করে সংসদের পাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ী/সম্রাট ও সেবনকারীদের সর্বোচ্চ সাজার বিধান করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মুল মাদককারবারীরা ধরাছেঁাঁয়ার বাহিরে থাকছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্য স্বল্পতা ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পুলিশের যে অবস্থা হয়েছে তার জন্য মাদক সম্্রাটরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান। পুলিশকে ন্যায়ের পথে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছেন। পোষাক পরিবর্তন করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ ও কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। ৫ আগস্টে আইন শৃংখলা বাহিনীর যে ক্ষতি হয়েছে তা উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। তিনি সামাজিকভাবে মাদকে প্রতিরোধ করার পরামর্শ দেন। প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, ইউনিয়ন , পৌরসভা ও থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সকল দল ও সমাজের গণ্যম্যান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আরো বলেন, বর্তমানে নতুন নুতন মাদক দেশে প্রবেশ করছে। যা অনেকগুলো আইন শৃংখলা বাহিনীরও নাম জানা নাই। এগুলো জানতে হলে ইন্সটিটিউট খুলতে হবে মনে হচ্ছে। প্রকৃত যারা দায়ী বা কারবারী তারা যেই হোকনা কেন তাদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেন। পুকুর খননের বিরুদ্ধে নন উল্লেখ কওে সংসদ সদস্য বলেন, অবৈধভাবে পুকুর খনন করা যাবেনা। পুকুর খনন করতে হলে আইন অনুযায়ী করতে হবে বলে জানান তিনি। আর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেন তিনি। আলোচান্তে সভাপতি সকল অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান। সেইসাথে সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি সভা শেষ করেন।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন