১১ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

সাপাহারে ১৫ শিক্ষকের মাদ্রাসায় ১৩ পরীক্ষার্থীর পাস করেনি কেউ!

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক
সাপাহারে ১৫ শিক্ষকের মাদ্রাসায় ১৩ পরীক্ষার্থীর পাস করেনি কেউ!
বিজ্ঞাপন

তোফায়েল আহমেদ, সাপাহার : নওগাঁর সাপাহারে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম হতাশার চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন সরকার দাখিল মাদ্রাসা থেকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত থাকার পরও শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটি থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তাদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
মাদ্রাসাটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এত সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করায় প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আতাউল্লাহ বলেন, “করোনা দুর্যোগের কারণে পরিবারগুলো অসচ্ছল হয়ে পড়ে। যার কারণে সচেতনতার অভাবে এই ফলাফল হতে পারে।”
এবিষয়ে সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবীর বলেন, “ আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে এটা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সতর্ক করা হবে।” এছাড়াও উপজেলায় আরও কয়েকটি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফল হয়েছে হতাশাজনক। এর মধ্যে মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ জন। দেওপাড়া শিংপাড়া মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে ১জন , রসুলপুর দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে ১জন এবং ইসলামপুর দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে মাত্র ১জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং মরাডাঙ্গা ময়নাকুড়ি আলিম মাদ্রাসায় ২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১জন।
সবমিলিয়ে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ৮৩৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২৮৩ জন। ফলে উপজেলায় মাদ্রাসাগুলোর সম্মিলিত পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৩.৯৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী।
একাধিক মাদ্রাসায় এমন হতাশাজনক ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ব্যবস্থা নিলে হবে না; শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা এবং পরীক্ষার আগে কার্যকর একাডেমিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দাবি, যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে ফলাফল খারাপ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি ও জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন