স্টাফ রিপোর্টার : দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা রাজশাহী এখনও করোনার ‘হটস্পট’। এখানে বেড়েই চলেছে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছেই। সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে নেয়া হয়েছে আঞ্চলিক লকডাউনসহ নানা পরিকল্পনা। নগরজুড়ে চলছে কঠোর লকডাউন। তবুও কমানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণ। নতুন রোগীর চাপে হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৬ টা থেকে গতকাল রোববার সকাল ৬ টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা মারা যান। এদের মধ্যে ১ জন করোনা পজেটিভ ছিলেন। বাকী ৯ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর ৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২ জন ও নওগাঁর ১ জন।
এ নিয়ে গত ১ জুন সকাল ৬ টা থেকে ২০ জুন সকাল ৬ টা পর্যন্ত ২০ দিনে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২০৩ জন। হাসপাতালের পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৩৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯ জন, নওগাঁর ৬ জন, নাটোরের ৩ জন ও পাবনার ১ জন। রোববার সকাল ৬ টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটের ৩০৯ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন ৩৭৭ জন। আগের দিন ভর্তি ছিলেন ৩৬৫ জন।
এদিকে করোনা এখন শুধু রাজশাহী শহরেই নয়, থাবা বসিয়েছে গ্রামাঞ্চলেও। শহরের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিস্তার ঘটিয়েছে গ্রামাঞ্চলেও। গ্রামাঞ্চলে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসনও। হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীর ৫০ শতাংশই গ্রাম থেকে আসছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী।
এদিকে রাজশাহীর উপজেলাগুলোর বাড়িতে বাড়িতে এখন জ্বর,সর্দি,কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগী। রাজশাহীতে করোনার নতুন হটস্পট হয়ে উঠছে পাঁচ উপজেলা। শহর থেকে পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সঙ্গে লাগোয়া রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার অবস্থা বেশি খারাপ। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, এ দু’টি উপজেলা থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে। এর পরের অবস্থানে আছে দুর্গাপুর,বাগমারা ও চারঘাট। সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে বোয়ালিয়া এলাকার রোগী বেশি।
হাসপাতাল পরিচালক আরও বলেন, গ্রাম থেকে যারা আসছেন তারা এতটাই দেরি করে আসছেন যে, কেউ কেউ মারাও যাচ্ছেন। এ অবস্থায় শহরের মতো গ্রামেও লকডাউন দেয়া এবং মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন,করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন একটি উত্তম পন্থা। টানা দুই সপ্তাহ সর্বাত্নক লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ভালো ফল পাওয়া যায়।