হারুন আল রশীদ, ধামইরহাট : নওগাঁর সীমান্তবর্তী চার উপজেলায় করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে সর্তক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তারপরও জনগণের মাঝে তেমন সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, নওগাঁর পোরশা উপজেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাথে সীমানা রয়েছে। ওই উপজেলার সাথে চাঁপাইয়ের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অপর তিন উপজেলা ধামইরহাট,পত্নীতলা ও সাপাহার একেবারে ভারত সীমান্ত ঘেঁসা। এসব উপজেলা দিয়ে ভারতে মানুষের যাওয়া আসা না থাকলেও বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাদকদ্রব্য আসে। এসব কাজে জড়িত চোরকারবারীরা সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এতে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণ হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে ধামইরহাট উপজেলার ৬টি,পত্নীতলায় ৩টি,সাপাহারে ৫টি এবং পোরশায় ২টি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর ক্যাম্প (বিওপি) রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় দিন দিন করোনা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এখনও জনগণের মাঝে তেমন সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। হাট,বাজারসহ সর্বত্র মানুষ অবাধে বিচরণ করছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার যেন বালায় নাই। এ চার উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে আম বাগান রয়েছে। বর্তমানে আম বিক্রয়ের ভরা মওসুম।
আম কেনার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা অবাধে আসা যাওয়া করছে। এতে সীমান্ত এলাকার সংক্রমণ দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। গত বুধবার পর্যন্ত ধামইরহাটে ৩১জন,পত্নীতলায় ২৪ জন,সাপাহারে ৩১জন এবং পোরশা উপজেলায় ২১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এক্ষুনি এসব সীমান্ত উপজেলায় কঠোর লকডাউন না দিলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে টহল ব্যবস্থা জোরদারসহ চোরাচালান প্রতিরোধে অতিরিক্তি সর্তক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এব্যাপারে ১৪ বিজিবি পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল এস.এম নাদিম আরেফিন সুমন,পিএসসি,জি বলেন,সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পক্ষ থেকে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধ ও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যাতে এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে মতবিনিময় করা হয়েছে।
সীমান্তে টহল ব্যবস্থা জোরদার করতে অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসক থেকে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত ১৬ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এব্যাপারে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে দোকানপাট খোলা থাকবে। সন্ধার পর শুধুমাত্র ঔষধের দোকান খোলা থাকবে। জনগনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয় বিক্রয় করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে প্রয়োজনে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।