সর্বশেষ সংবাদ

তিন দফা দাবিতে ঢাবি উপাচার্যকে ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

Paris
Update : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

এফএনএস : রোডম্যাপ ঘোষণা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবিলম্বে হল-ক্যাম্পাস খুলে দেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় তারা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীদের অন্য দাবি দুটি হলো- সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পরিকল্পনা করে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে এবং প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দিয়ে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ ও হল-ক্যাম্পাস খুলে পরীক্ষা নিতে হবে।

নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াদ হোসেন বলেন, আমরা বার বার নীলক্ষেত মোড়ে আন্দোলন করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনও সাড়া পাইনি। ওনারা বার বার কাণ্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও বার বার ছুটি বৃদ্ধি ছাড়া কোনও পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত আমরা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাইনি। ১৪ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার যে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে তা একটি দুধের বাচ্চাও বিশ্বাস করে না। যে শিক্ষার্থীরা হলে থাকেন, তারা হুট করে ঢাকায় এসে কোথায় থাকবেন?

এক মাসের জন্য তাদের বাসা ভাড়া কে দেবে?’ এ সময় তারা আগামী ১১ জুন নীলক্ষেত মোড়ে সংহতি সমাবেশ করারও ঘোষণা দেন। উপাচার্য বরাবর দেয়া স্মারকলিপিতে তারা বলেন, গত বছরের মার্চের ১৭ তারিখ বিপর্যস্ত পরিস্থিতির জন্য কলেজ ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর ১৪ মাস অতিক্রান্ত হলেও শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা কলেজ প্রশাসন থেকে কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

বরং পরিকল্পনা ছাড়া একের পর এক তারিখ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একপ্রকার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। করোনাকালে অনলাইন ক্লাস চালু করা হলেও তাতেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হয় স্মারকলিপিতে। সেখানে বলা হয়, অনলাইন ক্লাসে আর্থিক সংকট, ডিভাইস সংকট ও নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে প্রায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ রেখে অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর ঘোষণার ফলে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়েছে।

অথচ যেখানে অফিস-আদালত-মার্কেট-কারখানা সব খোলা রাখা হয়েছে, সেখানে করোনার অজুহাতে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা অযৌক্তিক। গত ১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আবাসিক হল না-খুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ৭ কলেজের বিভিন্ন বর্ষের স্থগিত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে হল না খুলে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসে থাকা ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’ উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে থেকে এসে পড়াশোনা করে।

হল, মেস ও সাবলেটে থেকে বিভিন্ন জায়গায় টিউশনি করে নিজের খরচ চালায় অনেকেই। আবার অনেকেই তাদের পরিবারকেও আর্থিক সহযোগিতা করে। করোনাকালে টিউশনি হারিয়ে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছে তারা। এমতাবস্থায়, শুধু পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসে থাকা তাদের জন্য ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে, হল-ক্যাম্পাস না খুলে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে শিক্ষার্থীরা নতুন সংকটে পড়বে।‘ প্রস্তুতির সময় না দিলে ফলাফল বিপর্যয় হবে বলেও আশঙ্কা করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্য মহোদয় আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris