এফএনএস : দেশে করোনা শনাক্তের একবছরের মাথায় দুই মাসের ব্যবধানে গত বুধবার আবারও হাজারের ঘরে পৌঁছায় শনাক্ত। এরপর থেকে শনাক্ত শুধুই বাড়ছে। গত শনিবারও শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ১৪ জন। গতকাল রোববার এক হাজার ১৫৯ জন শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্ত এক হাজার ১৫৯ জনসহ এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৮ জন, এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮ হাজার ৫৪৫ জন।
২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৩৮৫ জন, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ১১ হাজার ৬৯৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৫২৮টি, অ্যান্টিজেন টেস্টসহ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৬টি। এখন পর্যন্ত ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং মৃত্যু হার এক দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং নারী ৬ জন।
এখন পর্যন্ত পুরুষ ৬ হাজার ৪৬৩ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৮২ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যওয়াদের মধ্যে ৬০ঊর্ধ্ব ১২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫ জন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২ জন এবং বরিশাল বিভাগে একজন। ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনই হাসপাতালে মারা গেছেন।
এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনের দিনে দেশ বড় ধরনের বিপদে পড়তে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম। তিনি বলেন,‘নতুন করে এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশীরভাগই তরুণ, তাদের বেশিরভাগেরই আইসিইউ লাগছে।’ গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর টিবি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ টিবি সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘গেলো দুই মাস আমরা স্বস্তিতে ছিলাম, তাই এখন আমরা কোনও কিছু মানছি না। সামনের দিকে আরও বড় ধরনের বিপদে পড়তে যাচ্ছি, যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানি।’ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এরইমধ্যে প্রশাসনসহ সিভিল সার্জন অফিসগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সারা দেশে আইসিইউগুলো প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি জোরদার করতে এরইমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ ইউকে ও আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনের কারণে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলম বলেন, ‘জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
শিগগিরই করোনা টিকার তৃতীয় চালান দেশে আসছে বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ স্বাস্থ্য অধিদফতরের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম, আইসিডিডিআর-বি’র শর্ট স্টে ইউনিটের প্রধান ডা.আজহারুল ইসলাম খান, শ্যামলী টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আবু রায়হান প্রমুখ।