বুধবার

২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
৬-৮ ঘন্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হবে: রাসিক প্রশাসক চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মান্দার ৯ যুবক, শোকে স্তব্ধ তিন গ্রাম প্রবাসীর রেমিট্যান্স দেশের অন্যতম আয় হলেও জনশক্তি রপ্তানিতে ধস রাজশাহী থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে পশু নিতে পথে পথে দিতে হচ্ছে চাঁদা ভুয়া দলিলে অতিরিক্ত সম্পত্তি নামজারী মামলায় দলিল লেখক-শিক্ষক কারাগারে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭ পরিচ্ছন্নতাকর্মী টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের ১০ জন মান্দার, পরিবারে শোকের মাতম রাসিকের পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের চেক হিসাব বিভাগে হস্তান্তর রাজশাহী বিসিক-১ বিসিক-২ এর অচলবস্থা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আত্মশুদ্ধির নতুন অধ্যায়

ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান ও পরিবেশের ব্যাপক উন্নয়ন

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

ধামইরহাট থেকে প্রতিনিধি : নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নতুন সাজে সেজেছে। বতর্মানে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও রোগির প্রতি সেবা প্রদান ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। এতে এলাকার নিম্ন আয় ও ছিন্নমূল মানুষের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অসহায় মানুষের প্রতি সেবা প্রদানের জন্য বিত্তবানদের প্রতি এগিয়ে আসতে আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় দেড় লক্ষ লোক বসবাস করেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই একমাত্র ভরসা। তবে পূর্বে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বর্তমানে সে অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৮টি ইউনিয়নে ২১টি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় মানুষ বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে একটি সুরভিত বাগানে পরিণত হয়েছে। সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। এ অসম্ভব কাজ সম্ভব করেছেন বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.স্বপন কুমার বিশ্বাস। বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি এ হাসপাতালে যোগদান করার পর থেকে তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাসপাতাল সর্ম্পকে মানুষের ধারণা বদলে দিয়েছেন। এব্যাপারে ডা.স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন,এ হাসপাতালে যোগদানের পর করোনাকাল শুরু হয়।

বর্তমানে এখানে ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। হাসপাতালে নতুন ডেন্টাল ইউনিট স্থাপন,নতুন ইসিজি মেশিন স্থাপন,সেমি অক্টো বায়ুকেমিষ্টি এনালাইজার স্থাপন করা হয়েছে। যক্ষ্মা রোগের জন্য আধুনিক জিএক্স পার্ট চালু এবং যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ের জন্য ডিজিটাল এক্সরে মেশিন স্থাপন,ফ্লু,ডেঙ্গু ও কালাজ্বর কর্ণার চালু করা হয়েছে। হাসপাতালে বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষার মূল্য তালিকা,সিটিজেন চার্টার,সরকারি ঔষধপত্রের তালিকা এবং ভর্তিকৃত রোগিদের খাদ্য তালিকা সর্ব সাধারণের জন্য বড় করে সাটানো হয়েছে।

৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের অবকাঠামোগত উন্নয়ন,মহিলা সিএসসিপিদের ধাত্রী বিদ্যায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো গর্ভবতী মহিলারা স্বাভাবিক বাচ্ছা প্রসব করছেন। হাসপাতালের রোগিরা ডাবের পানি খেয়ে খোসা যত্রতত্র ফেলতো। এতে এডিস মশার জন্ম সহজহতো। বর্তমানে হাসপাতালে তিনটি ডাববিন বসানো হয়েছে। আগতকদের অন্তঃবিভাগে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল আইডি কার্ড এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মাঝে ওয়েস্ট কোর্ট প্রদান করা হয়েছে। সদ্য বিসিএস পাশকৃত এ হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য প্রভাতী শিক্ষায়তনিক অধিবেশন চালু করা হয়েছে।

অডিও সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আগতদের মাঝে স্বাস্থ্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো.শহীদুজ্জামান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ১২ সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো হাসপাতালকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। হাসপাতালে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে মুজিব কর্ণার ও লাইব্রেরী স্থাপন এবং সচেতনামূলক পোষ্টার কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের নামে নতুন ফেস বুক পেজ খোলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন ঘটলে হাসপাতালকে আলোকিত করতে আইপিএস,তিনটি সোলার ল্যাম্প এবং ২টি সার্চ লাইট স্থাপন করা হয়েছে। নতুনভাবে ওয়াস ব্লক,দূর্গন্ধযুক্ত ম্যানহোল অপসারণ এবং হেল্প ডেক্স স্থাপন।

ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগ্নি ও যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে হাসপাতালকে রক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তিনটি পুষ্প বাগান তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ভেষজ বাগান সংস্কার করে আধুনিকায়ন এবং এসব বাগানে দূর্লত জাতের ঔষধি ও ফুলের গাছ রোপন করা হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান ফটকের সংস্কার করা হয়েছে। করোনা শুরু পূর্বে ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীতে করোনা প্রতিরোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক ইউনিয়নকে ২৫টি ভাগে ভাগ করে নজর দারীতে রাখা হয়েছিল। যার কারণে এ উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা অনেক কম। মোট ৬৮ জন আক্রান্ত হলেও সুস্থ্য হয়েছেন ৬৪ জন।

মারা গেছে ৩ জন এবং একজন বর্তমানে আক্রান্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন,গাইনী কনসালটেন্ট এবং এনেসথেশিয়ার সংকটের কারণে মাদের সেবা প্রদান করা জটিল হয়েছে। তাছাড়া একজন জুনিয়র মেকানিক এবং দুই ক্লিনারের পদ শুন্য রয়েছে। গত ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে সারাদেশের স্বাস্থ কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রমের উপর একটি জরিপ চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস। ওই জরিপে এক থেকে দশটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্কোর ১৭.৪০ পয়েন্ট। এর মধ্যে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৭.৪০ স্কোর পেয়ে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে।

এব্যাপারে নেউটা গ্রামের মোশারফ হোসেন বলেন,বাড়ীর কাছে কোন খরচ ছাড়াই নিরাপদে কমিউনিটি ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসব নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বড় অর্জন। মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন,আগের চেয়ে হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশে নতুনত্ব এসেছে। নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, ধামইরহাট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান এবং হাসপাতালের পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। এখন কমিউনিটি ক্লিনিকে নিরাপদে গর্ভবতী মায়েরা বাচ্চা প্রসব করছেন।

এতে মা ও শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কম থাকে। আমাদের পরামর্শে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সার্বিক সহযোগিতায় হাসপাতালের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এসব ভালো কাজে সরকারের পাশাপাশি সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। ভালো কাজ বেশি প্রচার করলে অন্যরা তা দেখে উৎসাহিত হবেন। এখনও সে সকল সদস্যা রয়েছে সেগুলো দূর করার জন্য সিভিল সার্জন অফিস থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris