মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীতে ৩০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫৯ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি কোনো কাজে আসছে না। উদ্বোধনের অপেক্ষায় এক বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেও সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) অভাবে এটি এখন এলাকাবাসীর কাছে ‘মরণ ফাঁদ’ ও ‘শ্বেতহস্তী’তে পরিণত হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় ব্রিজের দুই মুখ বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষকে বাধ্য হয়ে আগের মতোই ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে।
নওগাঁ এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৩ মার্চ উপজেলার শিবগঞ্জ ও গোপিনাথপুর বাজারের পাশে আত্রাই নদীতে ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ কাজটি বাস্তবায়ন করে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সময় বাড়িয়ে এক বছর আগে ব্রিজের মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও পূর্ব পাশে শিবগঞ্জ বাজারে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ আটকে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এই ব্রিজের দুই পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পশ্চিম পাশের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নদী পার হয়ে পূর্ব পাড়ে স্কুলে যেতে অন্তত ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে নৌকায় পারাপার হতে হয় প্রাণ হাতে নিয়ে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতে হয় বলে পণ্য পরিবহনেও খরচ পড়ছে কয়েকগুণ।
গোপিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সালমান ফারসি বলেন, ‘বর্ষায় নদী পার হতে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ব্রিজ হয়েও আমাদের দুঃখ গেল না।’ একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন খেয়াঘাটের মালিক বিদ্যুৎ হোসেন ও প্রবীণ সিরাজুল ইসলাম। তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই ঘাটে একটি ব্রিজের স্বপ্ন দেখলেও তা এখন কেবল দৃশ্যমান এক কাঠামো হয়ে পড়ে আছে। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল মজিদ জানান, ব্রিজের মূল কাজ অনেক আগেই শেষ। কিন্তু ভূমি জটিলতায় সংযোগ সড়ক করতে না পারায় তারা মালামাল সরাতে পারছেন না, এতে তাদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী হবে।’