শফিকুল আলম সমাপ্ত : আমাদের রাজশাহী শহরটা যেন শান্ত এক টুকরো স্বর্গের মতো। বরেন্দ্রর উঁচু ভূমি, বন্যা নেই, নির্মল বাতাস আর চারিদিকে আম-মাছ-ফসলের ছড়াছড়ি। কিন্তু একটা খটকা কি আপনাদের মনে লাগে না? যে জেলাকে আমরা শস্য ভাণ্ডার বলি, সেই জেলা শহরেরই শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা কেন কাজের খোঁজে ঢাকা বা চট্টগ্রামে দৌড়াবে অথবা অলস সময় পার করবে?
হিসাবটা কিন্তু খুব সহজ। আমাদের শহর এখন আর পিছিয়ে নেই। ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস আছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আছে, এমনকি ট্রেনে করে অল্প খরচে পণ্য পাঠানোর সুবিধাও আছে। অভাব শুধু একটা সঠিক পরিকল্পনার। ভাবুন তো একবার, আমাদের শহরের উপকণ্ঠের ওয়ার্ডগুলোতে যদি ছোট ছোট ‘প্রসেসিং হাব’ গড়ে ওঠে! আমাদের শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা যখন টিটিসি বা যুব উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রফেশনাল ফুড প্রসেসিং, প্যাকেজিং আর এক্সপোর্ট-মার্কেটিংয়ের ওপর হাতে-কলমে ট্রেনিং নেবে এবং প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে অর্থও পাবে, তখন তারা আর বেকার থাকবে না। তারা হবে একেকজন দক্ষ কারিগর। এই তরুণরাই ছোট ছোট কারখানায় আমাদের রাজশাহীর আম থেকে পাল্প তৈরি করবে, টমেটো বা মাছ প্রসেস করবে। এরপর এই পণ্যগুলো সরাসরি চলে যাবে প্রাণ-আরএফএল বা সেজানের মতো বড় ফ্যাক্টরিতে। তাদের কোনো বিক্রির টেনশন নেই, কারণ বড় কোম্পানিগুলো এই ফ্রেশ পাল্প নেওয়ার জন্য বসেই আছে। শহরের ব্যাংকগুলো এখন অলস টাকা নিয়ে বসে আছে। তাদের যদি উৎসাহিত করা যায়, আপনার এই আইডিয়া আর টিটিসির ট্রেনিং সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে খুব কম সুদে সহজ শর্তে ঋণ দিতে, তবে পুঁজির অভাবে কোনো কাজ আর আটকে থাকবে না। এর ফলে কী হবে? আমাদের আম্রপালি বা ফজলি আম শুধু গাছ থেকে পেড়ে সস্তায় বিক্রি করতে হবে না। পচে যাওয়ার ভয়ে চাষি কাঁদবে না। বরং সেই আম প্রসেসিং হয়ে ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্য হিসেবে বিদেশের বাজারে যাবে। রাজশাহীর শিক্ষিত ছেলেরা নিজের শহরেই সম্মানের সাথে কাজ করবে, আর মেয়েরা হয়ে উঠবে সফল উদ্যোক্তা।
রাজশাহীর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং শিক্ষিত বেকারদের মুখে হাসি ফোটাতে এর চেয়ে বাস্তবসম্মত আর কী হতে পারে? কৃষি আর শিল্পের এই মেলবন্ধনেই লুকিয়ে আছে আমাদের আগামীর মুক্তি। আপনারা কী মনে করেন আমাদের এই সোনার রাজশাহীকে কি আমরা এভাবে গড়ে তুলতে পারি না?