এফএসএস : রমজান আত্মশুদ্ধির এক অনন্য মওসুম। যে মাসে আসমানের রহমতের দরজা খুলে যায়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে আসে। আর শয়তান শিকলে আবদ্ধ থাকে। আমরা অনেক সময় রমজানের প্রস্তুতি বলতে বুঝি বাজারের লম্বা তালিকা, ইফতারের বাহারি আয়োজন কিংবা ঘুম জাগরণের সময়সূচি ঠিক করা। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তুতি কি এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ?
রমজানের আসল প্রস্তুতি শুরু হয় হৃদয় থেকে। প্রথম প্রস্তুতি হওয়া উচিত তাওবা ও আত্মসমালোচনা। আমরা গত এক বছরে কত ভুল করেছি, কত ফরজ অবহেলা করেছি, কত হারাম কাজে জড়িয়েছি রমজান আসার আগেই সেগুলোর জন্য আল্লাহর দরবারে লজ্জিত হৃদয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি। কারণ নাপাক হৃদয় নিয়ে পবিত্র মাসকে স্বাগত জানানো যায় না।
দ্বিতীয় প্রস্তুতি ইবাদতের মানসিক অনুশীলন। হঠাৎ করে রমজান এলে অনেকেই নামাজ, কোরআন, তারাবি সবকিছুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই আগে থেকেই নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির আজকার বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। দিনে অন্তত কিছু সময় কুরআনের সাথে বসার অভ্যাস গড়ে তুললে রমজানে তা সহজ হয়ে যায়।
তৃতীয় প্রস্তুতি হচ্ছে চরিত্র ও আচরণের সংশোধন। রোজা শুধু উপবাস নয়; এটি চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরের রোজা। মিথ্যা কথা, গিবত, হিংসা, অহংকার এসব থেকে বাঁচার চেষ্টা রমজানের আগেই শুরু করা দরকার। নচেৎ ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া রোজার আর কিছুই থাকবে না।
চতুর্থ প্রস্তুতি হলো সময়ের সঠিক পরিকল্পনা। রমজান আমাদের জীবনকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে আসে। তাই আগে থেকেই ঘুম, কাজ, ইবাদত ও পরিবারকে সময় দেওয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ রুটিন তৈরি করা প্রয়োজন। অকারণ আড্ডা, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও অর্থহীন বিনোদন কমিয়ে আনা এটিও রমজানের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
পঞ্চমত, পারিবারিক ও সামাজিক প্রস্তুতি। পরিবারে রমজানের পরিবেশ তৈরি করা, সন্তানদের রোজার প্রতি আগ্রহী করা, দরিদ্র ও অসহায়দের কথা ভাবা এসবও ইবাদতের অংশ। রমজান আসার আগেই নিজের যাকাত, সদকা ও দান খয়রাতের পরিকল্পনা করে রাখা উত্তম।
সবশেষে মনে রাখতে হবে রমজান আমাদের কাছে অতিথি হয়ে আসে, আবার চলে যায়। আমরা জানি না, এই রমজান আমাদের জীবনের শেষ রমজান কি না। তাই প্রস্তুতি যেন হয় আন্তরিক, গভীর ও আল্লাহমুখী। যে রমজানের জন্য প্রস্তুতি নেয়, রমজান তার জীবন বদলে দেয়। আর যে অবহেলায় কাটায়, তার জন্য রমজান কেবল একটি তারিখের পরিবর্তন হয়। আসুন, আমরা এই পবিত্র মাসকে যথাযথ মর্যাদায় গ্রহণ করার প্রস্তুতি নেই আজ থেকেই।