শনিবার

৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ি সীমানে ২৮ জনকে পুশইনের আপচেষ্টা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা-প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তির সাহায্যে ভুল-অপতথ্যের প্রচার মোকাবিলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই কোম্পানির প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

রাজশাহীর ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ

Paris
Update : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার :  ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। প্রতিটি আসনে সাধারণ মানুষের মৌলিক দাবিগুলো এবার প্রার্থীদের ইশতেহারের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এবার রাজশাহীর ৬টি আসনে সর্বমোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাজশাহী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম। ভোটারদের দেয়া তথ্য মতে, এবারের নির্বাচনে রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি আসনেই লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে, জয় পরাজয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে নারী ও আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোট ব্যাংকের উপর। নিজ দলের ভোট বাদে যে প্রার্থীর থলিতে আ’লীগের ও নারীদের ভোট বেশি পড়বে তিনিই বিজয়ী হবেন বলে মন্তব্য করছেন সাধারণ ভোটাররা। ছয়টি আসনের প্রতিটিতেই লড়াই হবে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর মধ্যে। কেউ কেউ বলছেন এবারের নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে ফিফটি ফিফটি চান্স আছে রড় দুটো দলের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে।
রাজশাহীর মোট ছয়টি আসনে পুরুষ, নারী ও হিজড়া সবমিলিয়ে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৯২ হাজার ২১৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮২ জন। নারী ভোটার রয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৫০৯ জন ও হিজড়া ভোটার সংখ্যা ২৮ জন।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) : এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৬৮,৭৮০ জন। এরমধ্যে পুরুষ : ২ লাখ ৩৪ হাজার ০৭৮ জন। নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন ও হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৩ জন। এই আসনের স্থানীয়বাসিন্দা ও ভোটারদের মৌলিক দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কৃষি কাজের জন্য পানি, বীজ আর সারের বাধাহীন সরবরাহ ও সহজলভ্য প্রাপ্তি। সার, বীজ ও সেচ সুবিধা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে বিজয়ী প্রাপ্তীকে পরতে হবে কৃষকদের রোষানলে বলে মন্তব্য স্থানীদের। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। আর অন্যদিকে দাড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে থাকবেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে ধানের শীষ আর দাড়িপাল্লার মধ্যে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এই আসনে নারী পুরুষ ভোটের সংখ্যা প্রায় সমান। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৫ জন। তারা হলেন ট্রাক প্রতিকে মির মো. শাহজাহান, ঈগল প্রতিকে মো. আব্দুর রহমান, মোবাইল ফোন প্রতিকে মো. আল-সাআদ, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে মো. মজিবর রহমান, ধানের শীষ প্রতিকে মো. শরীফ উদ্দীন।
রাজশাহী-২ (সদর) : রাজশাহীর মোট ছয়টি আসনে মধ্যে সদর আসন সর্বোচ্চ ভাইটাল আসন হিসেবেই বিবেচিত। তাই এই আসনের দিকে অতিরিক্ত নজর সকলের। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৬৯,৫৬৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ : ১,৭৮,২৪৯ জন, নারী ভোটার সংখ্যা ১,৯১,৩০৭ জন ও হিজড়া ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৮ জন। স্থানীয় ভোটার, ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য ও মন্তব্য মতে নগরীর সাহেব বাজারসহ মহানগরীর অন্যান্য বাজারঘাটে অদৃশ্য চাঁদাবাজি নির্মূল করতে না পারলে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিজয়ী প্রার্থীকে সেটার খেসারত দিতে হবে চরমভাবে। এছাড়াও সিন্ডিকেটমুক্ত নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ চান ব্যবসায়িরা। কিশোর গ্যাংয়ের উত্তাপ কমাতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে এটা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়কে হবে বিজয়ী প্রার্থীকে। এই আসনে নারী ভোটার সংখ্যা পুরুষের চাইতে প্রায় ২০ হাজার বেশি। নারী ভোটার ও আ’লীগ সমর্থীত ভোটারদের উপরই নির্ভর করবে জয় পরাজয়। এই আসনে সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মসংস্থান। এই আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মিজানুর রহমান মিনু। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর লড়বেন দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৬ জন। তারা হলেন ঈগল প্রতিকে মু. সাঈদ নোমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর. কেটলি প্রতিকে মোহাম্মদ সামছুল আলম, ধানের শীষ প্রতিকে মো. মিজানুর রহমান মিনু, আনারস প্রতিকে মো. মেজবাউর ইসলাম, মোটর সাইকেল প্রতিকে সালেহ আহমেদ।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) : রাজশাহী শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত হবার কারণে এই আসনের গুরুত্বও অনেক। এই আসনে মোট ভোটার ৪,২৩,৭৩৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২,১০,৮৯৭ জন; নারী ভোটার ২,১২,৮৩৫ জন ও হিজড়া ভোটার সংখ্যা ৬ জন। এই আসনের একমাত্র নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. হাবিবা বেগম ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে। অন্যদিকে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন দুজন। মূল এই দুজনের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ের। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। মিলনের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ লড়বেন দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে। মূলত এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোটযুদ্ধ হবে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৬ জন। তারা হলেন ফুটবল প্রতিকে মোসা. হাবিবা বেগম, ধানের শীষ প্রতিকে মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, লাঙ্গল প্রতিকে মো. আফজাল হোসেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে মো. আবুল কালাম আজাদ, হাতপাখা প্রতিকে মো. ফজলুর রহমান, প্রজাপতি প্রতিকে মো. সাইদ পারভেজ।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) : রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটার ৩,১৯,৯০৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৬০,৭২০ জন, নারী ভোটার ১,৫৯,১৮৫ জন আর হিজড়া ভোটার ৪ জন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান লড়বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধ মাতাবেন ডা. আব্দুল বারী সরদার। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসেবার বিষয়টি এই অঞ্চলের মানুষের বড় চাওয়া। এই নির্বাচনে ধানের শীষ আর দাড়িপাল্লার মধ্যে ভোটযুদ্ধ জমবে বেশ; বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৪ জন। তারা হলেন ধানের শীষ প্রতিকে ডি.এম.ডি জিয়াউর রহমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে মো. আব্দুল বারী সরদার, হাতপাখা প্রতিকে মো. তাজুল ইসলাম খান, লাঙ্গল প্রতিকে মো. ফজলুল হক।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) : রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে একই দলের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে বেশ বেকায়দায় পরতে হবে ধানের শীষের প্রার্থীকে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বেশ সুবিধাজনক স্থানে আছে। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। আর দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে ভোটযুদ্ধে থাকছেন মনজুর রহমান। এই আসনে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোটযুদ্ধের লড়াই হবে প্রায় সমানে সমানে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এই আসনে মোট ভোটার ৩,৫৩,১৭৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১,৭৬,৬৭০ জন; নারী ভেটার ১,৭৬,৪৯৯ জন আর হিজড়া ভোটার রয়েছে ৫ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৭ জন। তারা হলেন ধানের শীষ প্রতিকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে মনজুর রহমান, একতারা প্রতিকে মো. আলতাব হোসেন মোল্লা, ঘোড়া প্রতিকে মো. ইসফা খায়রুল হক, মোটর সাইকেল প্রতিকে মো. রায়হান কাওসার, হাতপাখা প্রতিকে মো. রুহুল আমিন, ফুটবল প্রতিকে রেজাউল করিম।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) : রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৫৭,০৫৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৭৮,০৬৮ জন; নারী ভোটার ১,৭৮,৯৮৪ জন আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২ জন। এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাড়িপাল্লা নিয়ে ভোটযুদ্ধে থাকবেন নাজমুল হক। আর অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন আবু সাইদ চাঁদ। এই আসনে আবু সাইদ চাঁদ জনপ্রিয়তার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও নারী ও আ’লীগের ভোটারদের উপরই নির্ভর করতে হবে জয় পরাজয়ের বিষয়টি বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। এই আসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘পদ্মার বালু মহাল নিয়ে নোংড়া রাজনীতি আর হানাহানির বিষয়টি। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাথীর সংখ্যা ৪ জন। তারা হলেন ধানের শীষ প্রতিকে মো. আবু সাইদ চাঁদ, হাতপাখা প্রতিকে মো. আব্দুস সালাম সুরুজ, লাঙ্গল প্রতিকে মো. ইকবাল হোসেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে মো. নাজমুল হক।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris