রুবেল সরকার : ধানের শীষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এবং এটি সর্বময় জনগণের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাচন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে মোহনপুর উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিলন বলেন, বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে তখন দেশের জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করে। সে কারণেই আজ মোহনপুর বিএনপির গণজোয়ারে ভাসছে। তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একজন আপসহীন দেশনেত্রী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। এজন্য তাকে চরম অপমান, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। ফ্যাসিস্ট পতিত সরকার মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায় দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি করে রাখে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
মিলন আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসা নিলেও তাতে তেমন ফল আসেনি। এর আগেই তিনি নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং তার গড়ে তোলা প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশবাসী বিজয়ী হবে। আর দেশবাসী বিজয়ী হলে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে পবা-মোহনপুরে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। নির্বাচিত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হবে। প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, কারণ দীর্ঘ ১৭ বছরে এ এলাকার রাস্তাঘাটের কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে শুধু অর্থ লোপাট করা হয়েছে, যার ফলে দুই উপজেলার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। মিলন আরও বলেন, রাস্তাঘাটের পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড প্রদান করা হবে এবং বেকারত্ব লাঘবে কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। মোহনপুরবাসীর প্রধান কৃষিপণ্য পান চাষের উন্নয়নে গবেষণার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে পচন ও রোগবালাই কমানো যায়। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ব্যবহৃত পানি পরিশোধন করে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান স্থাপন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের জন্য খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দেশবিরোধী চক্র এখনো নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং ভোটিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার অনুরোধ জানান। বক্তব্যের শেষে যেকোনো ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। জনসভার অন্যান্য বক্তারা বলেন, বিএনপির গণজোয়ার দেখে দেশবিরোধী শক্তির নেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এই শক্তিকে লাল কার্ড দেখাতে এবং ১২ তারিখ সকাল থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। এদিকে দুপুরের পর থেকেই মোহনপুর উপজেলা সদর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে জড়ো হন। মুহূর্তেই মাঠ জনস্রোতে পরিণত হয়। এ সময় তারা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুনের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও মোহনপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সামাদ। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সরকারি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রুকুনুজ্জামান আলম, কেশরহাট বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা ইসলামসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।