বৃহস্পতিবার

১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
তানোরে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে অস্ট্রেলিয়ান-কানাডিয়ান হাই কমিশনার বেগম খালেদ জিয়া তাঁর জীবন দিয়ে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গেছেন : মিলন পদ্মাচরে মুড়িকাঁটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন মান্দায় অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালি জব্দ, প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি রাজশাহী অঞ্চলে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে কমেছে আলু চাষ তালন্দ কলেজে নিয়োগের আগেই কোটি টাকার লেনদেন গাজা উপত্যকায় মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে ৯৫ হাজার শিশু : জাতিসংঘ রাজশাহীর অধিকাংশ সোলার সিস্টেম ৬ মাসেই অকেজো! রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স’র নির্বাচন স্থগিত তারেক রহমানের আহ্বানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন বিদ্রোহী প্রার্থিরা

সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ

Paris
Update : বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
oplus_131072

তানোর থেকে প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে আলুর সবুজ পাতার মাঝে সরিষা ফুলের হলুদ সমারোহের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে পড়ছেন জনসাধারণ। সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহে উপজেলার দিগন্ত মাঠ ভরে উঠেছে। সু বাতাস ছড়াচ্ছে হলুদ ফুলের গন্ধ। এক অপরুপ নিদর্শন বিরাজ করছে উপজেলার মাঠ গুলোতে। আলুর সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে দেখা দিয়েছে মনোমুগ্ধকর হলুদ ফুল। মহান সৃষ্টির এক অপরুপ নিদর্শন ছড়িয়ে পড়ছে মাঠ গুলোতে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সরিষা চাষে ঝুকে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।
গত রোববার পাঁচন্দর ইউপির কৃষক রবিউল জানান, এবারে আমাদের এলাকায় অনেকে সরিষা চাষ করেছেন। কারন সরিষা চাষে খরচ খুবই কম এবং ফলন একটু ভালো হলে লাভ বেশি পায় কৃষকরা। আর সরিষা চাষে তেমন ঝুকি থাকেনা। ওই এলাকার মুন্টু নামের কৃষক ২ বিঘা জমিতে সরিষা বপন করেছিলেন। গাছ ভালো আছে। প্রতিটি গাছে হলুদ ফুল ফুটে আছে। আলম নামের আরেক কৃষক দেড় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। লুৎফর এক বিঘা জমিতে সরিষা বপন করেছেন। সরিষার বয়স প্রায় ২৫ থেকে ২৮ দিন চলছে।
তানোর পৌর এলাকার কৃষক শাকিল জানান, এক বিঘা জমিতে প্রথম বারেরমত সরিষা বপন করে ভালো ফুল দেখা দিয়েছে। প্রতিটি গাছে সোভা পাচ্ছে হলুদ ফুল। কালামের তিন বিঘা, আলতাবের দুবিঘা, রুহুলের একবিঘা ও জাকারিয়া পনের কাঠায় সরিষা বপন করেছে। দু একদি কম বেশি সবাই এক সাথে বপন করেছে। এসব মাঠে অতীতে তেমন সরিষা হত না। এবারে অনেকেই সরিষা বপন করেছে। কারন সরিষা চাষে খরচ একেবারেই কম। আর ফলন একটু ভালো হলে কিংবা যত্ন করলে ভালো ফলন আসে। বাড়ির তেল ও গরুর খৈলের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। সরিষা গাছের ডালগুলো রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়।
শাকিল আরো জানায়, এক বিঘা সরিষা বপনের জন্য ৩০ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৫ কেজি পটাশ ও ১৫ কেজি জিপসার এবং দু একবার কীটনাশক, সেচসহ নিম্মে ৭ হাজার টাকা থেকে ঊর্ধ্বে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘায় যদি ৫ থেকে ৬ মন ফলন হবে। একমন সরিষা বর্তমান বাজারে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে ৫ মন ফলন হলে ১৫ হাজার টাকা। আর ৬ মন ফলন হলে ১৮ হাজার টাকা আসে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, যে সব চাষাবাদে পানির সেচ কম লাগে সে সব চাষাবাদ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কারন উপজেলায় ভূগর্ভস্থ পানির লেয়ার হুমকিতে আছে। যত কম পানি ব্যবহার হবে আগামীর প্রজন্মের জন্য ততই ভালো হবে। মুলত এসব কারনে এবারে উপজেলায় ৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষা আবাদে রোগবালা তেমন থাকেনা। কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। তিন মাসের মধ্যে সরিষা উত্তোলন করা যায়। এক বিঘায় যে পরিমান খরচ হয় তার দ্বিগুণ লাভ পায় চাষিরা। বিশেষ করে বাঁধাইড় ইউপি এলাকায় অনেকে আম বাগানেও সরিষা চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারনে সরিষার গাছে গাছে ফুল ফুটেছে। আশা করা যায় কাংখিত ফলন পাবে চাষিরা। আর কোন ধরনের রোগবালা দেখা দিলে কৃষি অফিসের মাঠ কর্মী অথবা অফিসে এসে পরামর্শ নেয়ার কথাও বলেন এই কর্মকর্তা।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ জানান, যেদিকে তাকাই সেদিকেই সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠে এখন হলুদের ঢেউ। এসব ফুল থেকে মধু আহরণ করছে লক্ষ লক্ষ মৌমাছি। সরিষা চাষ উপযোগী আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা আশা করছে কৃষি বিভাগ।
রাণীনগর : রাণীনগর কৃষি অফিস জানান, চলতি মৌসুমে এ’উপজেলায় ২ হাজার ৮শত ৫০ হেক্টর জমিতে বারি সরিয়া-১৪, ১৫ এবং এই প্রথম নতুন উদ্ভাবিত উন্নত ফলনশীল জাত বারি সরিষা-১৭ চাষ করা হয়েছে।
পোরশা : পোরশা উপজেলায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। যা সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫২০ হেক্টর বেশি। সরিষার গাছ ও আবহাওয়া ভাল থাকলে বম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আত্রাই:চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবছর উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
সাপাহার : এ বছর উপজেলায় ৬ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় এবছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ হাজার হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ২৯ হাজার ২৬৫ হেক্টর।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris