ধামইরহাট থেকে প্রতিনিধি : জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সহচর আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের কান্ডারী ধামইরহাটের তনছের আলী নৌকা নিয়ে লড়তে চান। ধামইরহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের একটানা ২৮ বছরের সাধারণ সম্পাদক তনছের আলী নৌকা প্রতীক পেতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে এলাকায় মোটর শোডাউন, বিল বোর্ড সাটানো, হ্যান্ডবিলসহ বিভিন্নভাবে গণসংযোগ চালিয়ে জনগনের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। জানা গেছে, আসন্ন ১নং ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেতে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগসহ বিভিন্ন ধরণের প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা মো.তনছের আলী (৭২)। বর্তমানে তিনি ধামইরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত জগদল গ্রামের মৃত বাহার উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তনছের আলী ভাইদের মধ্যে সবাই ছোট। বর্তমান দুই বোন এবং তিনি জীবিত রয়েছেন। তনছের আলী ১৯৬৭ সালের স্থানীয় মল্লিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুশেন পাস করেন। এর পর রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সট্রিটিউট থেকে ১৯৭২ সালে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রী অর্জন করেন। রাজশাহী শারিরীক শিক্ষা কলেজ থেকে শরীরচ্চা বিষয়ে ডিগ্রী অর্জনের পর বাড়ীর পার্শে জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে ২০০৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ১৯৮৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত একটানা প্রায় ২৮ বছর ধরে ধামইরহাট ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এব্যাপারে তনছের আলী বলেন, ১৯৬৭ সালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সট্রিটিউটে অধ্যয়নকালীন সময়ে উত্তর বঙ্গের কৃতি সন্তান বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর জাতীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী রাজশাহী শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান এর আহবানে সাড়া দিয়ে এবং তাঁর দিক নিদের্শনায় এবং তৎকালীন রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নেতা বর্তমানে নাটোরের সংসদ সদস্য মো.আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চালিয়ে যাই। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে ১৯৮৫ সালে ধামইরহাট ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি।
একটানা প্রায় ২৮ বছর এ দায়িত্ব পালন করি। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। অনেকে লোভ লালসায় পড়ে দল পরিবর্তন করলেও তিনি বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হননি। দলকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করতে দিনের পর দিন গ্রামে গ্রামে বাই সাইকেল চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশপ্রেম,সততা,নিষ্ঠা সম্পর্কে জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালায়।এছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সকল গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করি।
বিগত সকল নির্বাচনে নৌকা মার্কা প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অনেক শ্রম দিয়েছি। নিজে কখনও কোন পদের প্রত্যাশা করিনি। জীবনের শেষ সময়ে এলাকার মানুষের কাছে যেতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে এবার নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছি। আশা করছি আমার রাজনীতি জীবন ও সবকিছু বিবেচনা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা মার্কা প্রদান করবেন।