শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

রাজশাহীতে একরাতের ভারি বর্ষণে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি

Paris
Update : শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : অসময়ের একরাতের ভারি বর্ষণে রাজশাহীর বাগমারা, মোহনপুর তানোর ও নওগাঁর মান্দাসহ অনেক এলাকায় তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, নিচু এলাকার ঘরবাড়ি। এ কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
বাগমারা প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় হঠাৎ করে নেমে আসা এক রাতের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলের মাঠ। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে যায়। এতে আগাম মৌসুমের আলু, পেঁয়াজ, মরিচসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পানবরজ ও পুকুরে চাষকৃত মাছও ভেসে গেছে। কৃষকরা জানান, বছরের এই সময়টিতে এমন বৃষ্টি একেবারেই অস্বাভাবিক। অনেকেই আগাম ফসলের আশায় চাষাবাদ শুরু করেছিলেন— কিন্তু এক রাতের বৃষ্টিতেই সব শেষ। এর পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় যেসব খাল ও ড্রেনেজ পথ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতো, সেগুলো এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওইসব জায়গায় মাছ চাষ করায় বর্ষার পানি আটকে থেকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পর পানি নামতে না পারায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। মাধাইমুড়ি গ্রামের কৃষক শামসুদ্দিন মন্ডল বলেন, জমির ধান কেটে রাখা ছিল হঠাৎ রাতভর বৃষ্টি হওয়ার নষ্ট হয়ে গেছে ধান। আমার মতো অনেক কৃষক তাদের জমির ধান কেটে রেখেছে। আরও কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, আমার পাম বরজ ভেঙে গেছে। ঝড় আর বৃষ্টিতে একাকার অবস্থা পান বরজের। অনেক ক্ষতি হয়েছে পান বরজ পড়ে গিয়ে। বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, একরাতের বৃষ্টিতে শতশত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সারা বছর বৃষ্টি হলেও সেভাবে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে এক রাতের বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরবর্তী ফসলের চাষবাস বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মোহনপুর সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাটিতে নুয়ে পড়েছে রোপা আমন ধান। ফলন ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আধা পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আমনচাষিরা। গতকাল শনিবার বিকালে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৪ হেক্টর জমির ধানসহ অন্যান্য ফসলের জমির প্রাথমিক মোট ক্ষতি ধরা হয়েছে ১০ হেক্টর। এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিরূপণ চলমান রয়েছে, কারণ অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় ক্ষতি নিরূপণ করতে সময় লাগছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৩৮৬০ হেক্টরে আমনের আবাদ করা হয়েছিলো।
মোহনপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের আমনের মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, হলুদ হয়ে আসা ধানের খেতগুলো মাটিতে মিশে রয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির ধান শুয়ে পড়ায় ফলন ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
মোহনপুর উপজেলার কৃষক রহিদুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, মন্টুসহ আমন ধানচাষীরা বলেন, এদিকে আমরা আলু চাষ করে লোকশানে আছি, পানের তো তুলনামূলক দাম নেই, আবার আমন ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্থ হলাম। শুক্রবারের সারারাত এতো বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা আগে কখন এমন মৌসুমে বৃষ্টি হয়নি। শনিবার সকালে দেখি পানের বরজ তো নষ্ট হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জমিতে থাকা আমন ধানের। আমরা আর ১৫ দিন পর ধান কাটার কথা ভাবছিলাম, আর জমিতে এসে দেখি পানিতে ধান নুয়ে পড়ে আছে । তারা হতাশা নিয়ে আরো বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছি। আর যখন কাটার সময় হলো, তখন পাকা ধানে মই দিয়ে গেল বৃষ্টি। জমিতে পানি জমে শিষ ভিজে নষ্ট হচ্ছে, ফলন অর্ধেকেরও কম হয়ে যেতে পারে।’
এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিস মোহনপুর নামের ফেসবুকে কৃষকদের উদ্দেশ্যে একটি পোস্টে লিখা হয়েছে, অতিবৃষ্টিতে ফসল রক্ষায় করণীয় : নালা কেটে দ্রুত পানি বের করার ব্যবস্থা নিন। বৃষ্টি থেমে গেলে ধান সহ অন্যান্য ফসলে ছত্রাকনাশক স্প্রে করুন। প্রয়োজনে আপনার ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, যেসব ধান শুয়ে পড়েছে সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতি কম হবে।’

তানোর থেকে প্রতিনিধি জানান, রাতভর বৃষ্টির পর সকালের দিকে রোপা আমন ধানের জমিতে যায় রাজশাহীর তানোর পৌর সদরের কৃষক শাকিল। জমিতে গিয়ে দেখে পাকা আধাপাকা ধান মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে, ধানের উপর দিয়ে পানির স্রোত নামছে। একটু দেখেই জমি থেকে বাড়িতে চলে আসেন। গতকাল শনিবার সকাল ১১ টার দিকে মলিন মুখে উপজেলা চায়ের দোকানে বসে ছিলেন চাষী শাকিল। তিনি জানান, ৫ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান রোপন করেছিলাম। এক সপ্তাহের মধ্যে ধানগুলো কাটা হত। কিন্তু মৌসুমি আবহাওয়ার কারনে গত শুক্রবার রাত নয় টা থেকে সকাল পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষনে পাচ বিঘা জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাঁচ বিঘা জমি টেন্ডার নিয়ে রোপন করেছি। প্রতি বিঘা ১২ হাজার টাকা করে টেন্ডার নিয়ে ধান রোপন করেছিলাম। আর রোপন থেকে এখন পর্যন্ত ৫ বিঘায় প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কারন এবারে বৃষ্টির কারনে ব্যাপক কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। ৫ বিঘার বিপরীতে টেন্ডার বাবদ ৬০ হাজার টাকা আর রোপন থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরো জানান, জমি থেকে পানি নেমে গেলেও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে ধানগুলো কাটতে। আর ধান গাছ মাটিতে পড়ে যাওয়ার জন্য কাটতে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগবে এবং খড় পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। আর দুএক দিন বৃষ্টি হলে ধানে টেক বা গাছ গজিয়ে যাবে। সেই সাথে ফলন নেমে আসবে অর্ধেকে। এক কথায় চলতি বছর কৃষক ও চাষীদের সর্বনাশের বছর বলে মনে করেন এই কৃষক। শুধু তাই না এক রাতের বৃষ্টিতে রাস্তা ঘরবাড়ি তে হাটু পানি। গত শুক্রবারের রাতের বৃষ্টিতে শুধু রোপা আমন পাকা আধাপাকা ধানসহ শতশত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। নিচু এলাকার গ্রামের ঘরবাড়িতে হাঁটু পরিমান পানি জমেছে। সেই সাথে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে প্রচুর পরিমানে ক্ষতি সাধন হয়েছে। বিশেষ করে বরেন্দ্র ক্যাবলে পানি ঢুকে সবকিছু বিকল হয়ে পড়েছে। ডিস লাইনসহ ইন্টারনেট সংযোগ অকেজো হয়ে পড়েছে। আন্ডার গ্রাউন্ড গুদাম ঘরে পানি জমে জিনিস পত্রসহ আসবাব পত্রের ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি ব্রীজ দিয়ে প্রচুর পানির স্রোত নামছে। মাছ মারতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে জনসাধারণ। আরেক রোপা আমন চাষী মনির জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলাম। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবারের বৃষ্টিতে সামান্য পরিমান ধান গাছ মাটিতে পড়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের রাতের ভারি বর্যন ও বাতাসের কারনে পুরো জমির ধান মাটিনে নুয়ে পড়েছে। ধানগাছের উপর দিয়ে পানির স্রোত নামছে। নিজস্ব জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা হত। কিন্তু এখন ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে কাটা পড়বে। মাটিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগবে, মিলবে না খড়ও। যার কারনে উৎপাদন খরচ উঠবেনা বলে মনে করছেন তিনি। মমিন নামের আরেক কৃষক জানান, তিন বিঘা জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে এবং ধানগাছের উপর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে । প্রচুর লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে।
জানা গেছে, উপজেলায় রোপা আমন ধান প্রধান তম চাষাবাদ। উপজেলার প্রতিটি মাঠে রোপা আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে। প্রতিটি মাঠে ধান গাছে পাক ধরেছিল। দশ বারো দিনের মধ্যে প্রায় মাঠের জমির ধান কাটা হত। কিন্তু শুক্রবারের রাতের ভারি বর্ষন ও বাতাসের কারনে প্রতিটি মাঠের জমির পাকা আধাপাকা ধানগাছ মাটির সাথে নুয়ে পড়েছে। প্রায় জমির ধান গাছের উপর দিয়ে ব্যাপকহারে পানি নামছে। প্রতি বিঘায় ৫/৭ মন করে ধানের ফলন কম হবে। পড়তে হবে লোকসানের মুখে। আরেক চাষী জাহাঙ্গীর জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছিলাম। আলুর বয়স প্রায় ২০ দিনের মত হবে। রাতের বৃষ্টিতে পানির নিচে পড়ে আছে আলুর গাছ।
এদিকে রাতের বৃষ্টিতে থানা মোড় হিন্দুপাড়া, গোল্লাপাড়া রাস্তায় হাঁটু পানি জমে আছে। এতে করে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের জনসাধারণ। পৌরসভার গ্রামীণ প্রায় রাস্তায় হাটু পানি জমে আছে। একেবারে ধীরগতিতে নামছে পানি। যার কারনে গ্রামের লোকজন চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। রাস্তায় অনেকে জাল দিয়ে মাছ ধরছে। ভারি বর্ষনে পুকুরের মাছ পানির স্রোতের সাথে ভেসে গেছে। ধান ও মাছ চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে, কপালেও চরম ভাজ পড়েছে। মাছ চাষীরা রাতভর পুকুরে পুকুরে মাছ আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে মাছ চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।
থানা মোড়ের মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক মোনা জানান, সকালে দোকান খুলে দেখি হাঁটু পানি জমে আছে। আমার বিজয়ের তেলের ও রইচের লেদের দোকানেও হাটু পানি জমে আছে। শুধু দোকানে না রাস্তায় কোমর পানি জমে ছিল। খুব ধীরে ধীরে নামছে পানি। পানি নিষ্কাসনের তেমন ব্যবস্থা না থাকার কারনে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সামান্য পানি হলেই জমে থাকে। সারা রাত বৃষ্টির কারনে থানা মোড়ে দেখা যায়নি জনসাধারণের। ভ্যান চালকরা হতাশ হয়ে বসে ছিলেন। অটো ভ্যান চালকরা জানান, বাজার বা মোড়ে লোকজন নেই। যার কারনে ভাড়া নেই। কৃষকরা জানান, ধান কাটা মাড়াইয়ের জন্য ২০ থেকে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিটি জমিতে পানি জমে রয়েছে। ধান কাটা শ্রমিক পাওয়ায় কষ্টকর হয়ে পড়বে। ধান কাটার পর আলু রোপন করা হত কিন্তু সেটাও এক দেড় মাস পিছিয়ে গেল। চলতি বছরে কৃষকের লোকসানের পর লোকসান গুনতে হচ্ছে। অথচ সরকারি ভাবে কোন সহায়তা নেই। কিন্তু কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করে দেশকে খাদ্যে ভরপুর করছে। শুক্রবারের রেকর্ড পরিমান বৃষ্টির কারনে কৃষি খাতে যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা বলা দূরহ ব্যাপার। শনিবার ছুটির দিনে কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা কে দেখা যায় নি। ধানের এমন দূর অবস্থা করনীয় কি সেটাও জানা যাচ্ছে না।
আলু চাষী ইউসুফ, সাইফুল, মামুনসহ অনেকে জানান গত মৌসুমে আলু চাষ করে প্রচুর লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই লোকসান পুসিয়ে নিতে পুনরায় আলু চাষের জন্য জমি লীজ সহ যাবতীয় কাজ করা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার রাতের ভারী বর্ষনে এক দেড় মাস রোপন পিছিয়ে গেল। উপায় নাই, চাষাবাদ করতেই হবে। কারন এউপজেলা কৃষি নির্ভর। চাষাবাদ ছাড়া কোন উপায় নেই। যতই লোকসান আর দেরি হোক চাষাবাদ করতেই হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ২২ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। ধান রোপনের শুরু থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং আলুর জমিতে ধান রোপনে সার কীটনাশক প্রচুর পরিমানে ব্যবহার করার কারনে ধান গাছ বেশি লম্বা হয়ে পড়েছিল। শুক্রবারের রাতের প্রচুর বৃষ্টি ও বাতাসের কারনে ধানগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। পাকা ধানের বেশি ক্ষতি হবে। আর আধাপাকা ধানের জমি থেকে দ্রুত পানি নামলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হবে।

মান্দা সংবাদদাতা জানান, হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানসহ শীতকালীন সবজির খেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকার ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সরিষা, ফুলকপি, আলু, পেঁয়াজের বীজতলা, গাজর ও অন্যান্য সবজির জমি। এতে স্থানীয় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কৃষকরা জানান, কার্তিক মাসের শুরুর দিকে আবহাওয়া ভাল থাকায় তারা জমিতে হালচাষ দিয়ে ফসল রোপণের প্রস্তুতি নেন। সরিষা, আলু, ফুলকপি, গাজর, মুলাসহ নানা সবজি এবং পেঁয়াজের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু হঠাৎ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা বৃষ্টির কারণে নিচু জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি আধাপাকা আমন ধানও নুয়ে পড়েছে। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধানের খেতসহ কৃষকের সরিষা ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজির খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এলাকায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ এবং গত তিন বছরে একদিনে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, কার্তিক মাসে সাধারণত হালকা বৃষ্টি হয়, তবে এ বছরের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, “হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে আমন ধান ও সবজি খেতের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।”


আরোও অন্যান্য খবর
Paris