রবিবার

৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

রাজশাহীতে পদ্মার পানি অব্যাহত বৃদ্ধির সাথে ঝুঁকিও বাড়ছে

Paris
Update : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : প্রতিদিন ক্রমান্বয়েই বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। ইতোমধ্যেই ডুবে গেছে নদী বক্ষের অনেকস্থানের চরগুলো। তাই বাধ্য হয়েই চরে বসবাসকারি বাসিন্দারা নিজেদের মালামাল নৌকায় করে শহররক্ষা বাঁধ সংলগ্ন লোকালয়ে নিয়ে আসছে। অনেকে উঠছেন তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে। কেউবা বাধ্য হয়ে উঠছেন ভাড়া বাড়িতে। যাদের গবাদি পশু রয়েছে; তারা পড়ছেন চরম বিপাকে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়েই নিজেদের গবাদি পশু রেখে এসেছেন নিমজ্জমান কিছু চরে। তবে সেগুলো নিয়ে আসার চেষ্টাও করছেন চরের বাসিন্দারা।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ১১ আগস্ট (সোমবার) থেকে পরবর্তী দুইদিন উত্তাল পদ্মা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার মাত্র ২১-২২ ইঞ্জি (০. ৫৫ মিটার) নিচ দিয়ে। গত ১১ ও ১২ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি ছিল যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৩৯ মিটার ও ১৭ দশমিক ৪৬ মিটার । বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেল চারটা নাগাদ সেটি বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার। রাজশাহীর জন্য পানির বিপৎসীমা ১৮ দশমিক শূন্য ০৫ মিটার বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানির বর্তমান উচ্চতানুযায়ী বিপৎসীমার খুব সন্নিকট দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে টি-বাঁধ পরিদর্শন বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে বলেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর পদ্মার পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৬৬ মিটার নীচ দিয়ে পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার (১০ আগস্ট) সকাল ছয়টায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ১৩ মিটার। একই দিন সন্ধ্যা ছয় টায় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ১৭ দশমিক ২২ মিটার। সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ছয়টায় পানি বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ৩২ মিটার। আর একই দিন সন্ধ্যা ছয় টায় পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৩৯ মিটার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- গেল ২৪ জুলাই থেকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। সেদিন পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৩৫ মিটার। তারপর আবার তা কমে যায়। আবার একই মাসের ৩১ জুলাই থেকে পানি বাড়তে থাকে। তার পর থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শহরে আশ্রয় নিতে আসা চর খিদিরপুরের বাসিন্দারা বলেন, পদ্মার পানি হঠাৎ করে অনেক বেড়েছে। জেগে উঠা চরগুলো ডুবে গেছে। ফলে চরের বেশিরভাগ মানুষ লোকালয়ে চলে এসেছে। এছাড়া গবাদি পশুগুলো নদী থেকে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। চরগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। চরে গজানো ঘাসের অভাবে এখন উচ্চমূল্য দিয়ে শহর থেকে পশুর জন্য আলাদাভাবে খাবার কিনতে হচ্ছে। এযেনো মরার উপর খারার ঘাঁ, বলে মন্তব্য ভুক্তভোগী ও চরের বাসিন্দা মাসুদের। রাজশাহী শহর থেকে দক্ষিণে ভারত সীমান্তের চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশির ভাগ অংশ ডুবে গেছে। পদ্মার মাঝখানে অবস্থিত মিডল চরও পুরোপুরি ডুবে গেছে। পদ্মার পানি বেড়ে রাজশাহী শহরের তালাইমারী, কাজলা, পঞ্চবটি, পাঠানপাড়া, লালনশাহ মঞ্চ, শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক বাসিন্দা বাড়ি ছেড়েছেন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তালাইমারী ও পঞ্চবটি এলাকায়। রাজশাহী পবা উপজেলার ৮ নম্বর হরিয়ান ইউনিয়নের মেম্বার মো. সহিদুল বলেন, পদ্মা নদীর পানিতে অনেক চর ডুবে গেছে। অনেকের বাড়ির কাছা কাছি পানি উঠে গেছে। অনেকেই চর ছেড়ে লোকালয়ে চলে গেছে। চরের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গবাদি পশু নিয়ে। অনেকেই গবাদি পশু লোকালয়ে নিয়ে গেছে। এখনও অনেক গবাদি পশু চরে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। বুধবার সন্ধ্যায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, ভারতে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে এবং ফারাক্কার বেশির ভাগ কপাট খোলা থাকায় পদ্মার পানি বেড়েছে। জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য ‘টি-বাঁধ’ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও টুরিস্ট পুলিশ। অনেকেই দেয়ালের পাশ দিয়ে ঢুকছে, যা আরও কড়াকড়ি করা হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris