রবিউল ইসলাম, পত্নীতলা : নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার পত্নীতলা ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোজ্জাফর। স্ত্রী ও তিন সন্তানের সংসারে রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে সংসার চালাতেন মোজ্জাফর। বড় দুই সন্তান বিয়ে করার পরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবাকে ফেলে রেখে চলে যায়। কোন খোঁজ খবর রাখেন না বাবার। ছোট ছেলে মারুফ (১৯) সংসারের হাল ধরতে গিয়ে রাস্তায় ঔষুধ কোম্পানি গাড়ির ধাক্কায় কেঁড়ে নেয় তার দুই চোখের দৃষ্টি শক্তি।
একবেলা খেলে অন্য বেলায় উপোস থাকতে হয় তাদের। জরজীর্ণ মাটির একটি ঘরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারটি খাদ্য ও অর্থ সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রোজার মাসে ঠিকমতো সেহরি ও ইফতার খেতে পারছে না। পরিবারের সদস্যরা অন্তত দুইবেলা খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে চায়। গৃহকর্তা মোজ্জাফর হোসেন জানান, অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। এই রমজানেও অনেক সময় সেহরি না খেয়ে রোজা রাখতে হয়েছে তাদের। ছোট ছেলে মারুফকে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করাতেন তিনি। ইচ্ছে ছিলো ছোট ছেলেকে হাফেজ বানাবেন। কিন্তু হঠাৎ ছোট ছেলের সড়ক দুর্ঘটনায় দুখ চোখ অন্ধ হয়ে যায়। ডাক্তার বলেছেন টাকা খরচ করে অপারেশন করালে আমার ছেলে আবারও দেখতে পারবে। রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে যে টাকা পাই সেটা দিয়ে সংসার চলে না। আমার বয়স হয়েছে এখন আর ঠিকমতো গাইতেও পারি না। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মারুফ জানান, অর্থ সংকট মাথায় নিয়ে প্রতিদিন ভোরে তাদের ঘুম ভাঙে। তার বাবা মোজ্জাফর সরকারি প্রতিবন্ধী যে ভাতা পান তা নিতান্তই অপ্রতুল। তাদের পরিবারে রোজগার করার মতো কেউ নাই। এই কারণে তাদের অর্ধাহারে-অনাহারে কাটাতে হয়। আমার ইচ্ছে ছিলো পড়াশোনা শেষ করে বাবার পাশে দাঁড়াবো। দশম শ্রেণীতে উঠার পরেই আল্লাহ আমার চোখের আলো কেঁড়ে নিলেন। অভাবের সংসারে বাবার স্বপ্নটা পূরণ করতে পারলাম না। স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জনি বলেন, সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে তাদেরকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করা হয়। সমাজের বিত্তবানরা তাদের কথা চিন্তা করে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়ালে পরিবারটির অভাব কেটে যাবে। মারুফ ছেলেটির চোখের ভালো চিকিৎসা করালে সে আবারো আগের মতো দেখতে পারবে।