বুধবার

১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধিতে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, আড়াই মাস পর মরদেহ শনাক্ত রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী

বোয়াল শিকারের উৎসব

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০২৫

তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর এবং মোহনপুর উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে চলেছে বিল কুমারী (শিবনদী। বিলের এক পাশে তানোর অন্যপাশে মোহনপুর। শিব নদীতে (বিলকুমারী বিল) চাবি জালে বোয়াল শিকারের উৎসবে মাতোয়ারা সৌখিন মাছ শিকারী ও মৎস্যজীবীরা।
জানা গেছে, ফালগুনের শুরুতে নদীর পানি কমে যাওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবারো চাবি জাল দিয়ে মাছ শিকারের এই উৎসবে অংশ নিয়েছেন নানা শ্রেণী-পেশার নানা বয়সের সৌখিন মাছ শিকারী ও মৎস্যজীবীরা। প্রতি বছর শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে নদীর উজানে পানি কমে যায়।এসময় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি তানোর, মান্দা, পবা, মোহনপুর গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকার দুর-দুরান্ত থেকে এসে সৌখিন মাছ শিকারীরা ঐতিহ্যেবাহী চাবি জাল দিয়ে মাছ ধরা উৎসবে অংশ নেন।
এদিকে গত ৩ মার্চ সোমবার সরেজমিন তানোরের বুরুজঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের অনেক মানুষ এক সঙ্গে নদীর দুই’ধার বরাবর এক লাইনে থেকে চাবি জাল দিয়ে নদীতে নেমে মাছ শিকার করছেন। সম্মিলিত এই মাছ শিকার উৎসব দেখতে বিল পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন উৎসুক মানুষ। এসময় কারো চাবি জালে বড় মাছ ধরা পড়া মাত্র হই-হই কলরবে মুখরিত হয়ে উঠছে বিল পাড়ের পুরো এলাকা। সৌখিন এসব শিকারিরা জানান, মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেই প্রতিবছর এই সময় প্রায় দিন এই জমায়েত হয়। যে মাছ শিকার করা হয় তা- বিক্রির জন্য নয়। তবে অনেক বেশি মাছ পাইলে কেউ কেউ কিছু মাছ বিক্রি করে। যারা মাছ শিকার করতে আসেন তাদের সিংহভাগ পেশাদার জেলেও নন। শুধুমাত্র শখের বশে নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ এক সঙ্গে নামেন নদীতে। শখের মাছ যায় ঘরে।
তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউনিয়নের (ইউপি) আজিপুর গ্রামের ফজর আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম (৪৫), আবুল কালামের পুত্র মুক্তার হোসেন (৪০) এবং আবেদ প্রামানিকের পুত্র মিরাজ প্রামানিক জানান, শিব নদীতে পানি কমে আসলেই আমরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে একটি দিন তারিখ ঠিক করি। পরে এক সঙ্গে নেমে পড়ি নদীতে। বেশির ভাগই চাবি জাল নিয়ে আসেন মাছ ধরতে। কেউ কেউ অন্য জালও আনেন। আমরা শিব নদীতে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নানা বয়সের প্রায় ৩৫ জন মানুষ এক সঙ্গে মাছ ধরতে এসেছি এবং প্রত্যেকেই যথেষ্ট মাছ পেয়েছি, বেশি পেয়েছি বোয়াল মাছ। তবে কেউ কেউ মাছ কম পেয়েছে। প্রতি বছর নদীতে এক সঙ্গে মাছ ধরা আমাদের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। তারা আরো বলেন, আমরা এই চাবি জাল দিয়ে শিব নদীতে বড় রুই, কাতল, বোয়াল, গজার, টেংরা, বাইম, পুঁটিসহ নানা প্রজাতির ছোট মাছও শিকার করে ঘরে নিয়ে যায়। তবে গতকাল আমরা কমবেশি সকলেই বোয়াল মাছ বেশি পেয়েছি। বর্তমানে বোয়াল মাছের চাহিদা অনেক। আমরা বেশি বেশি বোয়াল মাছ ধরতে পেরে খুব খুশি।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris