শুক্রবার

১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
হাজার কোটি টাকার টার্গেট নিয়ে রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু রাজশাহীতে অটোরিক্সা চালক হত্যায় চার জন গ্রেপ্তার, অটোরিক্সা উদ্ধার রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় ‘চাঁদাবাজ’ হিসাবে অপপ্রচারের অভিযোগ নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার মূল হোতাসহ ১৫ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী শুধু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন না, স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাচ্ছেন : রাসিক প্রশাসক বন্ধ চিনিকলগুলোতে আশার আলো মোস্তফার ভরসা বুকে বাঁধা বেয়ারিং গাড়ি রাজশাহীকে পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহীর লিচুতে ৬০ কোটি টাকা বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা অবশেষে জেল ফটকে অপেক্ষারত তিন শিশু ফিরে পেল মায়ের কোল

মাথায় ৭ বুলেট নিয়ে কাতরাচ্ছেন কুড়িগ্রামের এনামুল, টাকার অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা

Paris
Update : শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৪

এফএনএস : কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে যান মো. এনামুল হক (২৫)। এ সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে পুলিশের এলোপাথাড়ি গুলি শুরু হয়। তখন এনামুলের মাথায় ও সারা শরীরের প্রায় ৫০টি রাবার বুলেট এসে লাগে। চিকিৎসা করে সবগুলো বুলেট বের করলেও এখনো মাথায় সাতটি, হাতে একটি ও উরুতে পাঁচটি বুলেট নিয়ে কাতরাচ্ছেন এনামুল। অপারেশনের মাধ্যমে বুলেটগুলো বের করা সম্ভব। তবে প্রচুর টাকা ও ঝুঁকি আছে বলে জানান চিকিৎসকরা। কর্মহীন হয়ে পড়ে থাকা দিনমজুর এনামুলের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় করার সামর্থ নেই। এনামুক হক ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত বেলাল হোসেন ও মোছা. আমিনা বেগমের ছেলে। বাবা মারা যাওয়ার পর দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। ঘরে স্ত্রী ও কন্যা সন্তান, মা আর ভাই বোনের খরচ মেটাতে হিমশিম খাওয়া এনামুলের চোখে এখন হতাশার ছাপ। এনামুল হক বলেন, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলা শহরে ৪ আগস্ট শুরু হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলন। বিকেলে ছাত্রদের সঙ্গে মিছিলে যোগ দেই। মিছিলটি ভুরুঙ্গামারী থানার সামনে এলে আমাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। এতে মিছিলে থাকা আমিসহ প্রায় ২০ জন আহত হই। এ সময় আমার মাথা, হাত-পা ও পিঠে ৫০টির মতো রাবার বুলেটে লাগে। আহত অবস্থায় বন্ধুরা আমাকে আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে আসি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার তিন-চরদিন পর হঠাৎ আমার মাথা প্রচুর ঝিমঝিম করতে থাকে। রংপুর ইসলামিক কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে বাকি বুলেট বের করি। এখন আমার মাথায় সাতটি বুলেট আছে। হাতে একটা ও উরুতে পাঁচটা আছে। সেগুলো এখনো বের করা যায়নি। ডাক্তার বলেছে সেগুলো বের করতে অপারেশন করতে হবে, অনেক টাকা লাগবে। টাকা তো নাই। তাই অপারেশন করাতে পারছি না। এনামুল হকের মা মোছা. আমিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে এনামুলের দিনমজুরের টাকা দিয়ে সংসার চলতো। আন্দোলনে গিয়ে সে আহত হয়েছে। কাজ করতে পারে না। এখন সংসার চালানোর টাকা নাই। চিকিৎসা করবো কেমনে? এনামুলের স্ত্রী শিমু আক্তার বলেন, আমার স্বামীর আয় দিয়ে কোনো রকম সংসার চলতো। এখন স্বামী অসুস্থ কাজ করতে পারে না। চিকিৎসা খরচ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। কেউ যদি সহযোগিতা করতো তাহলে আমাদের উপকার হতো। ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম ফেরদৌস বলেন, আহত এনামুল হকের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ওনাকে অফিস আসতে বলেন বিষয়টি দেখবো।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris