৩১ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

বানেশ্বরে ইজারাদারকে মারধরের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: আপনার মতামত
বানেশ্বরে ইজারাদারকে মারধরের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ^র হাটের ইজারাদার ওসমান আলীকে (৫৮) মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসমান আলী বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। তাকে মারধরের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দোকানপাট বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া তারা বাজারে বিক্ষোভ-মিছিলও করেন। বানেশ্বর বাজারে ওসমান আলীর সার ও কীটনাশকের দোকান রয়েছে। আগের দিন বুধবার বিকালে এ দোকানেই ওসমান আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে রাতেই তিনি বানেশ^র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা ও ডিস ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ ছাড়াও অন্য যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- মো. জুয়েল (৩০), মো. সাদেকুল (৩১), হামিদ ড্রাইভার (৪০), মো. মেহেদী (২৫), জহিরুল ইসলাম (৩২), মো. নাসির (৩৫) ও মো. সাগর (৪০)। তাদের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী ওসমান আলী বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি বানেশ^র হাট ইজারা নিয়ে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছেন। তিনি সরকারকে নায্য দর দেন বলে অন্যরা কম টাকায় হাটটি ইজারা নিতে পারেন না। এ জন্য আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ তার ওপর ক্ষুব্ধ। আগামী ফেব্রুয়ারিতে হাটটি আবার ইজারা দেওয়া হবে। এই ইজারা প্রক্রিয়ায় তিনি যেন অংশ না নেন তার জন্য ভয় দেখাতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, বুধবার বিকালে তিনি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা কালামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার দোকানে যায়। তারা প্রথমেই ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাটার বন্ধ করে দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এরপর সন্ত্রাসীরা ওসমানের পকেট থেকে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তাকে শাসানো হয় যে, এখন থেকে তারা যা বলবে তা শুনতে হবে। তা না হলে হত্যা করে লাশ গুম করে দেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ওসমান আলী আমাকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেন। তাই আমার ছেলেরা গিয়ে একটু ধাক্কা দিয়ে এসেছে। এর বেশি কিছু না। সকালে আমার ছেলেদের মারধর করা হয়েছে। আমরাও মামলা করছি।’ পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘ওসমান আলী যে অভিযোগ দিয়েছেন তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হচ্ছে। কালামও একটা অভিযোগ দিয়েছেন। সেটা তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা এলাকাতেই এখন আছি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন