তানোর থেকে প্রতিনিধি
দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু সাধারণ ভোটারদের হ্নদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন গোলাম রাব্বানী। তিনি রাজশাহী-১(তানোর -গোদাগাড়ী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। রাব্বানী কাঁচি প্রতীকে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি প্রথমবারের মত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। রাব্বানী মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউপি এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে এবার এআসনে নৌকার হেভিওয়েট প্রার্থী এমপি ফারুক চৌধুরী দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে এক প্রকার কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে মনে করেন সাধারণ ভোটারেরা। এ আসন থেকে চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠ দাবিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে এ তিন প্রার্থী কে নিয়েই চলছে নানা হিসেব নিকেশ। যদিও বৃহত্তর দল বিএনপি ভোটে অংশগ্রহণ করেননি।
গোলাম রাব্বানী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু যাচাই বাছাই এক শতাংশ ভোটারের নমুনা স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় প্রার্থীতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসিতে) আপিল করেন। কিন্তু সেখানেও বাতিল হয়। পরে হাইকোর্টে আপিল করলে প্রার্থীতা ফিরে পান রাব্বানী।
ভোটারদের ভাষ্য, গোলাম রাব্বানীর প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় দুই উপজেলার দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারনের মাঝে উৎসবের শেষ ছিল না। তিনি সাধারন ভোটার থেকে আপামর জনতার হ্নদয়ে ইতিপূর্বেই জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তার প্রথম প্রচারণা শুরু হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেব পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া মহল্লায় ভোটারদের মাঝে নিজের প্রতীকে কাঁচি মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।দুই উপজেলার ভোটারেরা মনে করেছিলেন রাব্বানী প্রার্থীতা ফিরে না পেলে ভোটের কোন আমেজ থাকত না। রাব্বানী বিগত ২০১৮ সাল থেকে ভোটের মাঠে রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার পর থেকে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। রাব্বানীর ছাত্র লীগ থেকে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। তানোর উপজেলায় এক নামে রাব্বানী পরিবারকে চিনে জনসাধারণ। তার বাড়ি মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রকাশনগরগ্রামে। তার পিতা পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপির) চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই ইউনিয়ন থেকে শুরু করে বাধাইড় ইউনিয়ন ও মুন্ডুমালা পৌরসভার একচ্ছত্র আধিপত্য তার পরিবারের। কারন তার বাব দাদারা ওই এলাকার জনসাধারণের সেবক হিসেবে কাজ করে গেছেন। রাব্বানীও দুবার চেয়ারম্যান ও দুবার মেয়র থেকে সেবক হিসেবে কাজ করেছেন। রাব্বানী যে এলাকায় যান সে এলাকায় শতশত জনসাধারণ উপস্থিত হন। বিশেষ করে তানোর উপজেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা রাব্বানী।
এদিকে তার ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম কামারগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপির) সাবেক চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দিন প্রামাণিকের খৈলানে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। একাধিক সিনিয়র নেতারা বলেন, অনেক নেতারা ভয়ে রাব্বানীর পক্ষে প্রকাশ্যে আসছেনা। তবে ত্যাগী তৃনমুলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক হারে ভোট দিবেন কাঁচি প্রতীকে। কারন রাব্বানী একজন ক্লীন ইমেজের ভালোবাসার নেতা। তারমত ব্যক্তিত্বপূর্ন নেতা পাওয়া অত্যান্ত কঠিন। তার ভিতরে ক্ষমতার দাম্ভিকতা, অহংকার, কাউকে ছোট করে দেখা এমন আচরণ নাই। সুতরাং ভোট কেন্দ্রে আসুন রাব্বানীর প্রতীক কাঁচি মার্কায় ভোট দিয়ে ক্লীন ইজেমের নেতাকে ক্ষমতা দিন। কারন সময় এসেছে দাম্ভিকতা ও অহংকারের বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার। এমন সময় হয় তো আর পাওয়া যাবে না। তাই সকল ভেদাভেদ ভূলে সব দাম্ভিকতাকে পিছনে ফেলে এক হয়ে কাঁচি প্রতীকে ভোট দিন। তাহলে দেখবেন ভালোবাসার নেতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোন ভয় না, কোন বাধা না, সবকিছু কে উপেক্ষা করে ৭ জানুয়ারি কাঁচি প্রতীককে বিজয় করার জন্য ভোটারদের প্রতি আকুল আবেদন করেন। গোলাম রাব্বানী এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দুই উপজেলার নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে আছি। কারন শুধু এমপি ভোট করার জন্য গত পৌরসভা ভোটে অংশগ্রহণ করিনি। আমি আপনাদের সন্তান, আমার কাঁচি প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় করুন সবাই মূল্যায়িত হবেন। সময় এসেছে জবাব দেয়ার। আপনারা ৭ জানুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। এবারের ভোট হবে শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে। সবাই ভোট কেন্দ্রে এসে আমার কাঁচি প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন, প্রতিদান অবশ্যই পাবেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৫ জানুয়ারি প্রচারণার শেষ দিন ও ৭ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ। আসনটিতে চারটি পৌরসভা ও ১৬ টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪০ হাজার ২১৮ জন। দুই উপজেলা মিলে ভোটকেন্দ্র ১৫৮ টি। ভোটকেন্দ্রের কক্ষের সংখ্যা ৯৯৪ টি। অস্থায়ী ভোট কক্ষের ৫১ টি। নতুন ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩ টি। এআসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৪ জন। একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।