আতিক ইসলাম, শিবগঞ্জ
বাড়ির ছাদে দেশ-বিদেশের শতাধিক প্রজাতির মরুভূমির ফুল অ্যাডেনিয়াম বা ডেজার্ট রোজ চাষ করে তাক লাগিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আম উদ্যোক্তা ইসমাইল হোসেন শামীম খান। তার ছাদ বাগানে রয়েছে লাল, মেরুন, গোলাপী, ঘিয়ে, সাদা, হলদে, নীলাভ ও কালো রঙের ফুল। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের কথা জানিয়েছেন এই উদ্যমী যুবক। প্রতিদিন তার এই ছাদ বাগান দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে। নানান প্রজাতির ফুলের সমারোহ দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দর্শণার্থীরা। জানা যায়, ছোটবেলা থেকে তার পছন্দ গাছপালা। আম ব্যবসার পাশাপাশি বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন বাহারি রঙের ফুলের বাগান। ছাদ তার অনন্য কাজের একটি অংশ। এখন সেই বাগানে আছে ৮০ রকমের অ্যাডেনিয়াম বা মরুর গোলাপ। জানা গেছেÑ ১৭৫২ সালে প্রথম কেনিয়ায় এই ফুলের গাছের সন্ধান পাওয়া যায়। ফুলটি প্রধানত মরুভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র অ্যাডেনিয়ামের দেখা পাওয়া যায়। অ্যাডেনিয়াম বা ডেজার্ট রোজকে বলা যেতে পারে মরুর গোলাপ। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার সেলিমাবাদ খানপাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন শামীম খান। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে আমি থাইল্যান্ড গিয়েছিলাম। সেখানে বেশকিছু স্থানে অ্যাডেনিয়াম বা মরুর গোলাপ দেখে মুগ্ধ হই। তাদের কাছে জানতেও চাই, এই মরুর গোলাপ কি বাংলাদেশে চাষ করা সম্ভব? তারা বলেন, এটি শুধু মরুভূমির ফুল হওয়ায় বাসায় চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কিছুদিন পর বাংলাদেশে এসে খোঁজ নিলাম এই মরুর গোলাপের। বেশকিছু ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিলাম। পরে একজন আমার পোস্টে সাড়া দিয়ে মরুর গোলাপের চারা দিতে চাইলেন। তার কাছ থেকে মূলত মরুর গোলাপের চারা নিয়ে ২০১৯ সালে চাষ শুরু করি। তিনি আরও বলেন, এখন আমার ছাদ বাগানে প্রায় ৮০ রকমের অ্যাডেনিয়াম ফুলের গাছ আছে। আমার কিছু কিছু গাছ আছে, যা এখন বিক্রি হবে ১০ হাজার টাকার বেশি দামে। কিন্তু আমি চারা কিনেছিলাম মাত্র ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। তাই আমার মনে হয়, এই মরুর গোলাপ বাণিজ্যিকভাবেও চাষ করা সম্ভব। এই উদ্যোক্তা বলেন, আমার গাছগুলোয় লাল, মেরুন, গোলাপী, ঘিয়ে, সাদা, হলদে, নীলাভ ও কালোসহ ৮০ রকমের ফুল ফোটে। যা দেখতে আসেন দূর-দূরান্তের মানুষ। এতে আমার খুব ভালো লাগে। আগামীতে ইচ্ছা আছে বাণিজ্যিকভাবে মরুর গোলাপ চাষ করার। ফুলটি মরুভূমির উদ্ভিদ। এটি ভার্মি কম্পোস্ট, হাঁড়ের গুঁড়া, বেলে দোআঁশ মাটি দিয়ে টবে লাগাতে হয়। ইসমাইল খান শামীমের ছাদ বাগান দেখতে এসেছেন পাশের এলাকার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি অনেকবার শুনেছি শামীম ভাইয়ের ছাদে অনেক সুন্দর ফুলের গাছ আছে। তাই দেখতে এসেছি। দেখে মন ভরে গেল। এত সুন্দর ফুলের গাছ এর আগে আমি কখনো দেখিনি। পাশের গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, শামীমের ছাদ বাগানে মাঝে মাঝেই আসা হয়। দেখতে খুব ভালো লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তুলে আপলোড দিলেও সাড়া পাওয়া যায়। তাই মাঝে মাঝে আসা হয়। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় অ্যাডেনিয়ামের চাষ অনেক কম। এটি মূলত মরুভূমিতে হয়ে থাকে। তবে এখন বাণিজ্যিকভাবেও অনেক স্থানে চাষ হচ্ছে। উপজেলায় এটি এখনো হয়ে ওঠেনি। আগামীতে এই মরুর গোলাপ যদি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। তবে অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।