সোমবার

১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ রাণীনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, ভাঙ্গন আতংক যতক্ষণ প্রাণ থাকবে, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কর্মশালা লন্ডনে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহীর ত্বাকি সবুজ ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে : এমপি মিলন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা সুইট

রাবি ছাত্রলীগে পদবঞ্চিতদের ভাঙচুর নেতাকে মারধর, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

Paris
Update : রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৩

আরা ডেস্ক

প্রায় ৭ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পরদিনই পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ, আবাসিক হলে ভাঙচুর, দলীয় নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুকে সভাপতি ও আসাদুল্লা হিল গালিবকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণার পরদিন রবিবার এসব ঘটনা ঘটে।

কমিটি ঘোষণার পরই বিবাহিত, ড্রপ আউট,  অছাত্র ও টাকার বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদ্যগঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন কমিটির নেতৃবৃন্দের একাংশ। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ হিল গালিবের কক্ষ ভাংচুর করেছে একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে অবস্থান নিয়ে সদ্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।এতে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগের মুখোমুখি অবস্থানে তৃতীয় শক্তির ইন্ধন ও জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টার আশঙ্কাও উঠেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাবি ছাত্রলীগের ২৬তম সম্মেলনের প্রায় একমাস পর গত শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে মোস্তাফিজুর রহমান বাবু ও আসাদুল্লা হিল গালিবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এদিকে রবিবার সকালে নতুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে নিজেদের ফেইসবুক টাইমলাইনে পোস্ট দেয়। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সংলগ্ন ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে এসে জড়ো হয়।

অবাঞ্ছিত ঘোষণাকারীরা হলেন পূর্বের কমিটির সহসভাপতি কাজী আমিনুল হক লিংকন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম সরকার ডন, ধর্মবিষয়ক উপসম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম দুর্জয়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অনিক মাহমুদ বণি ও সাকিবুল হাসান বাকি প্রমুখ। নতুন কমিটিতে কাজী লিংকন, বাকি, ও বণি পদ না পেলেও সরকার ডন ও দুর্জয় সহসভাপতির পদ পেয়েছেন। পরে বেলা ১১টার দিকে পদবঞ্চিতরা মাদার বখশ হলে জড়ো হয়ে নব ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক আসাদিল্লা হিল গালিবের কক্ষে ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ উঠেছে কাজী লিংকন, সরকার ডনসহ পদবঞ্চিতরা গালিবের কক্ষে ভাঙচুর চালায়। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরে বেলা ১২টা দিকে পরিবহন চত্ত্বরে নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী ও পূর্বের কমিটির সহসম্পাদক আরব হোসেনকে মারধর ও ধাওয়া দেয়া হয়। গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনেই তাকে মারধর করেন কাজী লিংকন। এসময় সাকিবুল হাসান বাকিসহ অন্য পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

নতুন সাধারণ সম্পাদক গালিবের কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী লিংকন ও সরকার ডন বলেন, আমরা ওই হলে (মাদার বখশ) শান্তিপূর্ণভাবে গিয়েছিলাম। কিন্তু কক্ষ ভাঙচুরের সাথে আমরা জড়িত নই। এটা সাজানো নাটক। ওরাই এখন ভাঙচুর করে আমাদের নামে অভিযোগ দিতে পারে। গালিব বিয়ে করে রাজশাহীতে শ^শুরবাড়িতে থাকে। সে কিভাবে নেতা হয়?

সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সরকার ডন আরও বলেন, আমরা এখন রাতদিন ২৪ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছি। ওদেরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দিব না। সেটা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বুঝবে, কমিটি বিলুপ্ত করে দিবে। কুষ্টিয়াতে হয়েছে, চট্টগ্রামে হয়েছে। সভাপতি-সেক্রেটারি ক্যাম্পাসে ঢুকতেই পারেনি। আমরাও ঢুকতে দিবো না। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে আমরা চাপে রাখবো। আমরা এই কমিটির বিলুপ্তি চাই।

রাবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, নতুন এই কমিটিকে বিশ্ববিদ্যায়ের সর্ব স্তরে নেতাকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী স্বাগত জানাচ্ছেন। কিন্তু কতিপয় নেতা ও কর্মী কমিটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত করার কেউ নন। নির্বাচনের বছরে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে আমরা সেটা শক্ত হাতে প্রতিহত করব।

এদিকে ছাত্রলীগের মুখোমুখি অবস্থানে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এই সুযোগে সরকার বিরোধী পক্ষ ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরী করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগর বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এইটাকে তৃতীয় শক্তি সুন্দরভাবে কাজে লাগাবে। তারা তো এটা নিয়ে হাসাহাসি করছে। ছাত্রলীগের পক্ষের অবস্থান নিয়ে তারা ফায়দা লুটবে এবং ইন্ধন দিবে এটা খুবই স্বাভাবিক। এবং সেটিই চলছে।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ সক্রিয় আছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক। তিনি বলেন, হলে ভাঙচুরের খবর পেয়ে আমরা সেখানে গেছি। আমরা দেখছি নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে। আমরা তাদের মনিটর করছি। কথা বলার চেষ্টা করছি যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এছাড়া প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে আছে।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris