সোমবার

১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ রাণীনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, ভাঙ্গন আতংক যতক্ষণ প্রাণ থাকবে, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কর্মশালা লন্ডনে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহীর ত্বাকি সবুজ ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে : এমপি মিলন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা সুইট

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ‘নিরাময়’ কবে?

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

শাহানুর রহমান রানা
রাজশাহী নগরীর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে সেবায় অবহেলা আর সরকারি নিয়মনীতির অমান্যতার অভিযোগ তুলছেন রোগীর অভিভাবক স্বজন ও সেবাগ্রহীতারা। নামমাত্র সেবা দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেবার কথাও বলছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নগরীর বেশকয়েকটি নিরাময়কেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে সত্যতাও মেলে নানাবিধ অভিযোগের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ নারকোটিক্সের (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর) কাছ থেকে গ্রহণ করা লাইসেন্সের বিধি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে না নগরীতে গড়ে ওঠা নামমাত্র নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো। তবে, শহরের বেশ কয়েকটি সেন্টারের গুণগতমান একেবারেই মন্দ না হলেও সরকারি বিধি বিধানের মান্যতার ক্ষেত্রে সেখানেও আছে অনেক অপূর্ণতা। রয়েছে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অপ্রতুলতা ও অনুপস্থিতি। যার কারণে, মোটা অংকের অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসা নেয়া মাদকাসক্ত রোগীদের অনেকেই বাড়ি ফিরে আবারো জড়িয়ে পড়ছেন মাদকসেবনে বলে দাবি অভিভাবকদের। মাদকাসক্ত রোগীর অভিভাবকরা এসব নামমাত্র সেন্টারগুলোতে রোগী ভর্তি করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ছাড়া অন্যকিছুই পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ তাদের।
সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের পর্যবেক্ষন ও অভিযানের ক্ষেত্রে অনিয়মিতকরণ আর অবহেলাই এর জন্য দায়ি বলে মনে করেন অনেকে। এছাড়াও নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদেরকে পড়তে হয় ‘র‌্যাগিং’ খপ্পরে বলেও অভিযোগ আছে অনেক। র‌্যাগিং মানে এখানে বোঝানে হয়েছে সিনিয়র রোগীরা যা বলবে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদেরকে বাধ্য হয়ে তাই করতে হবে।
নগরীর বেশ কয়েকটি নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার, নার্স ও পরিচ্ছন্ন কর্মীর কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, নিয়মিত কোন ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দিলে তাদেরকে মাস চুক্তিতে বেতন দিতে হয়। তাই প্রয়োজন পড়লে ডাক্তার ডাকা হয়! কিন্তু, নারকোটিক্সের (মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর) কাছ থেকে গ্রহণ করা লাইসেন্সের বিধি অনুসারে, প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে একজন মেডিসিন ডাক্তার (মেডিকেল অফিসার), একজন মনোচিকিৎসক, একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স/বয়, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জীবন রক্ষাকারী উপকরণ এবং ওষুধপথ্য থাকতে হবে। প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে একজন মাদকাসক্ত রোগীর জন্য গড়ে কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশ থাকতে হবে। কিন্তু নগরীর অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে এগুলোর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। যাদেরকে নার্স (বয়) হিসেবে রাখা হয়েছে তাদের অনেকেই ঐ সেন্টারে একসময় চিকিৎসা নিয়েছেন। কোনো অনুমতিত নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে স্বল্প, মধ্যম বা দীর্ঘ মেয়াদি কোন প্রশিক্ষণ আছে কিনা জানতে চাইলে; কর্মরত নার্স (বয়)/স্বাস্থ্যকর্মীদের উত্তর ছিল না সূচক। কিন্তু তথাপি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি; নার্সিং কাজে তারা নাকি দক্ষ ও যোগ্য! অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার আসেন ‘অন দ্যা কলে’ (প্রয়োজন পড়লে ফোন করা সাপেক্ষে ডাক্তার আসেন)। স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন ক্যাটাগড়ির ডাক্তার কেন্দ্র্রগুলোতে নেই। সরকারি নিয়মনীতির অনুপস্থিতি রেখে অপূর্ণ সেবার মধ্য দিয়েই নিরাময় কেন্দ্রগুলো চলছে দেদাড়ছে। একবার যারা ভর্তি করেন তারা আর ঐ সেন্টারে দ্বিতীয়বার ভর্তি না করে অন্যত্র ভর্তি করান কিছুটা আশা নিয়ে। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা। যার কারণে অনেক বাবা-মা হতাশাগ্রস্থ হয়ে হাল ছেড়ে দেবারও উপক্রমে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে মারধর, মানসিক নির্যাতন ও অপদস্থ করার মতো ঘটনা প্রায়শই ঘটে। তাদেও দেয়া তথ্য মতে, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে একেকজন একেক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিচ্ছেন। কেউ যতসামান্য বিষয়েই আটকে রাখছেন, কেউবা মারধর করাটাকে চিকিৎসা বলছেন। আবার কেউবা মাঝেমধ্যে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ঘুম পারচ্ছেনা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো কোনো চিকিৎসা নয়। তবে কোন কোন নিরাময় কেন্দ্রে কাউন্সিলিং ক্লাস করানোর প্রবণতা দেখাগেছে। কিন্তু সেটি অনিয়মিত।
অবশ্য চিকিৎসার নিয়ম কী, তা বলা আছে সরকারি নির্দেশনায়। বলা হয়েছে, নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্ত ব্যক্তি আসার পর তাঁকে প্রশিক্ষিত লোক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কাউকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তাঁকে বিশেষ কক্ষে রাখতে হবে। ওই কক্ষের মেঝে ও দেয়ালে ফোমজাতীয় পদার্থ থাকবে, যাতে রোগী পড়ে গিয়ে এবং কোনোভাবে মাথায় আঘাত না পান। মাদক গ্রহণ করতে না পারায় রোগীর শরীরে কাঁপুনি, মলমূত্র ত্যাগ করাসহ বিভিন্ন উপসর্গ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ওষুধ দিতে হবে। মাদকাসক্তি ছাড়াতে রোগীকে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের মধ্যে রাখতে হয়।
সরকারি বিধিনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণকারী মাদকাসক্ত রোগীরা পরিপূর্ণ সেবা না পেলেও অভিভাবকদের গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। স্থান ও আবাসিক ভবনের মানানুযায়ী নগরীর সেন্টারগুলোর মাসিক খরচে রয়েছে ভিন্নতা। স্থানভেদে চিকিৎসাবাবদ নিরাময় কেন্দ্রগুলো জনপ্রতি মাসিক খরচ নিচ্ছে ১৩ থেকে ১৫ হাজার করে। সাথে রয়েছে অন্যান্য আনুসঙ্গিক খরচ। সবমিলিয়ে একজন রোগীর পেছনে মাসিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় বিশ হাজার টাকা বলে জানান চিকিৎসেবা নেয়া মাদকাসক্ত রোগীর অভিভাবকরা। কোন কোন সেন্টারে সার্বিক খরচ আরো বেশি।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর বিভিন্ন এলাকার মাদকাসক্ত রোগীর অভিভাবকরা জানান, মাদক নিরাময় সেন্টারে তাদের সন্তানদের চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে এসে সপ্তাহখানেক যেতে না যেতেই পুনরায় তারা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মোটা অংকের অর্থ খরচ করার পরেও তেমন কোন সুফল পাচ্ছেনা বলে দাবি অভিভাবকদের। চিকিৎসা নেবার পরেও মাদকাসক্ত রোগীরা কেনো পরিবর্তন হচ্ছেনা জানতে চাইলে, জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অবসরে যাওয়া একজন কর্মকর্তা বলেন, এসব ক্ষেত্রে যথার্থ কাউন্সিলিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কুফল সম্পর্কে ধারণা দিয়েই মাদক থেকে দূরে রাখা যাবে না। বের করে আনতে হবে মাদকের পথে পা বাড়ানোর পেছনের কারণটি। এক্ষেত্রে কাউন্সেলিং অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রোগীর সাথে কথা বলে কারণ বের করে তা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিতে হবে। কিন্তু তেমনটা করা হয় না অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে।
সরকারি বিধিবিধানের মান্যতা না থাকলেও অনিয়ম, অবহেলা আর নির্যাতনের কমতি নেই বেশ কিছু সেন্টারে। শহিদুল নামের একজন মাদকাসক্ত রোগী অন্য একজনের সাথে তার পৈত্রিক সম্পত্তি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে গল্প করায় নিরাময় ও পুণর্বাসন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ তাকে মোটা লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ আছে। চিকিৎসাকালীন সময়ে স্বপন নামের একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে নগরীর একটি নিরাময় কেন্দ্রে। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নেয়া ঐ রোগীর মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ বলেন, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ সবকিছু জানেন। আপনারা তাদের কাছে গিয়ে জেনে নিন!
নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে লাইসেন্স দেয়া ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন দাপ্তরিক কাজে (আদলতে দপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনীকাজে ব্যস্ত ছিলেন) বাইরে থাকার কারণে দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, রাজশাহী শহরে সরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুণর্বাসন কেন্দ্র আছে একটি। আর লাইসেন্স প্রাপ্ত বেসরকারি নিরাময় ও পুণর্বাসন কেন্দ্র আছে ৮ টি। নিয়মানুযায়ী প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে প্রতি ত্রিশজন রোগীর জন্য একজন মেডিসিন ডাক্তার (স্থায়ী/সার্বক্ষণিক), একই নিয়মে প্রতি ত্রিশজনের বিপরীতে একজন মনোচিকিৎসক/সাইকোলজিস্ট (সার্বক্ষণিক/খন্ডকালীন), প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সনদধারি দুইজন নার্স/ওয়ার্ড বয় ও একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার বিধান আছে। তিন থেকে ছয়মাস চিকিৎসা নেয়া (কেউ কেউ একাধিকবার) নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড নিবাসি রনি, লক্ষিপুর কাঁচাবাজার নিবাসি আতু, কয়েরদাড়া এলাকার শহিদুলসহ নামপ্রকাশ না করার শর্তে চিকিৎসা গ্রহীতারা প্রতিবেদককে জানান, চিকিৎসা নেয়াকালীন সময়ে তারা কখনোই সেবাকেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার দেখেননি। তবে, মাসে একবার করে অফিস কক্ষে ডাক্তার আসতো বলে শুনেছি। কারো অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে গেলে ডাক্তার আসতেন। আমাদেরকে নিয়মিত কোন ঔষধও দেয়া হতোনা। তবে প্রতিদিন পাঁচটা করে নিম্নমানের সিগারেট দেয়া হতো। তারমধ্যে পরেরদিন সকালে একটি সিগারেট কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেয়া লাগতো। এটা এক ধরনের মানসিক (্আত্মনিয়ন্ত্রণ) পরীক্ষা। নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে ‘র‌্যাগিং’ এর বিষয়টি প্রচোলিত আছে। আমার একদিন আগেও যে রোগীটা সেখানে ভর্তি হয়েছে, তিনি যেটা বলবেন আমাকে সেটাই করতে হবে। না করলে গালিগালাজ, অসদাচরণসহ মারধরের ঘটনাও ঘটে। কর্তৃপক্ষ কিছুই বলেনা। বাসা থেকে দেয়া শ্যাম্পু, একাধিক সাবান, নারিকেল তেল, বিস্কিট, নতুন জামাকাপড়, লুঙ্গি, একাধিক গামছা সহ অন্যান্য সামগ্রী নিরাময় কেন্দ্রে অভিভাবকরা দিয়ে গেলেও সেগুলোর অধিকাংশই আমাদের হাতে আসতো না। পরিবার থেকে কেউ দেখা করতে আসলে (১৫/২১ দিন অন্তর) অফিসের কোন না কোন কর্মচারি পাশে বসে থাকতো। যেটা খুব বিব্রতকর। তাই চিকিৎসাকালীন সময়ে এখানকার অনিয়মের কথাগুলো অভিভাবকদেরকে ভয়ে বলতে পারতাম না। তারা আরো জানায়, মাঝেমধ্যেই অফিসের একজন কর্মচারি হাতে মোটা লাঠি নিয়ে আমাদের কক্ষের সামনে দিয়ে পায়চারি দিতো। তাই নিজেদের মধ্যেও নানাবিধ অনিয়ম নিয়ে আলোচনা করার কোন সুযোগ থাকতো না। এক কক্ষে সর্বনিম্ন পাঁচ থেকে ছয় জন করে থাকার কথা জানান তারা। শুধু গৃহবন্দি হয়ে সেখানে থাকা-খাওয়ার বিষয়টিই মূখ্য ছিল। এটিকে ছোটখাটো কারাগার বলেও অভিহিত করেন অনেকেই। অভিভাবকদের অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর কবে হবে ‘নিরাময়’। আগে দরকার নিয়মনীতি অমান্য করে নামমাত্র সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাময়তা। তবেই সুচিকিৎসা ও কাঙ্খিত সেবা পেয়ে নিরাময় হবে মাদকাসক্ত রোগীরা।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেলটিয়াবাড়ি এলাকায় ‘বৃজ মাদকাসক্তি চিকিৎসাকেন্দ্রে’ তোফাজ্জল হোসেন (৩২) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছিল। মৃতের পরিবারের দাবি ছিল, তোফাজ্জলকে অতিরিক্ত শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি মাদকাসক্তি নিরাময় ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে নির্যাতনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় মুক্তি ক্লিনিক নামের ওই প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris