স্টাফ রিপোর্টার
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও বাঘার মেয়র আক্কাছের পরস্পর বিরোধী ক্রোধ বাঘা থেকে গড়িয়েছে রাজশাহী নগরী পর্যন্ত। রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলীর দূর্নীতির বিরুদ্ধে আ.লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে বাঘায়। অপরদিকে রোববার দুপুরে মেয়র আক্কাছের নেতৃত্বে বাঘা-চারঘাট এলাকার সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে রাজশাহী নগরের আদালত চত্বরে। আর পরস্পর বিরোধী এসব কর্মসূচিকে সংশ্লিষ্ঠ রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক ক্রোধ বলেই মনে করছেন।
জানা যায়, রোববার বিকাল ৫টায় বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ব্যানারে লেখা রয়েছে, বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা ও বাঘা পৌরসভা মেয়রের মাদক সেবন, সীমাহিন দূর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রম, কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু সাঈদ চাঁদের দোসর আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ।

বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন নবাব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম মন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ রানা তিলু, ওয়াদেহ সদিক কবির, শাহিনুর রহমান পিন্টু, আবদুল কুদ্দস, মামুন হোসেন প্রমুখ। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, মেয়র আক্কাছ আলী একজন বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা। সে বাঘা পৌরসভা মেয়র হয়ে মাদক সেবন করে। তার সীমাহিন দূর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে। তিনি রাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রম করে এবং কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু সাঈদ চাঁদের দোসর হিসেবে কাজ করছে। এর প্রতিবাদে আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। তিনি আরও বলেন, মেয়র আক্কাছ আলী ২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৫ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে তিনি পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি করেন। এই সীমানা বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেন। তারপর দীর্ঘদিন নির্বাচন বন্ধ ছিল। ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি পৌরসভার বিভিন্ন কাজের আয়কর ও ভ্যাটের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করে লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। এছাড়া তিনি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে এডিবি’র বিশেষ বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করে। ২০০৬-২০১৩ সাল পর্যন্ত এডিপি ও বিশেষ বরাদ্দের ব্যয়ের কাগজপত্র পৌরসভায় নেই। বাংলা ১৪২৩ সালের সিএনজি, টেম্পু ষ্ট্যান্ড ও হাট বাজার ইজারার টাকা ও পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে। বাঘা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু বলেন, মেয়র আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে শুধু পৌরসভার দূর্নীতি না, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, শ্রীলতাহানি, ভাংচুর, সরকারি কর্মকর্তাকে মারপিট, সরকারি কাজে বাধা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশকে হুমকিসহ অর্ধশতাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে। তা বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ রয়েছে।
বাঘা পৌর মেয়র আক্কাছ আলী বলেন, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শাহরিয়ার আলমের দ্বারা বারবার নির্যাতন হতে হচ্ছে। এই নির্যাতন সইতে পারছিনা। তাই নির্যাতনের প্রতিবাদে রোববার সকাল ১১টায় রাজশাহীর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে একটি ব্যানার নিয়ে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি।
এদিকে রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট এলাকার সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রোববার দুপুরে রাজশাহী আদালত চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল ‘বাঘা-চারঘাটের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম কর্তৃক আর কত নির্যাতন সইবো?’ এতে নেতৃত্ব দেন বাঘা পৌরসভার মেয়র, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আক্কাছ আলী। নেতাকর্মীরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে শাহরিয়ার আলমের বিকল্প কোনো প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভ সমাবেশে আক্কাছ আলী বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বাঘা ও চারঘাট এলাকার সব স্থানীয় নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কাজ করে অন্য মতাদর্শীদের বিজয়ী হতে সহযোগিতা করেন। এলাকার ত্যাগী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। এসব কারণে এলাকার জনগণ শাহরিয়ার আলমের ওপর ক্ষিপ্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি পুনরায় তাকে এ আসনে মনোনয়ন দেন তাহলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হবে না। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের নির্দেশে বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের নামে মামলা করছেন। বর্তমানে ১০০ নেতাকর্মী বিনা দোষে মামলার আসামি। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাঘা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোকাদ্দেস আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন সুরুজসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা রাজশাহী আদালত এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে মোবাইলে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।