মঙ্গলবার

১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীর নওহাটা গুদামে অনিয়ম, ৫ ট্রাক চাল আটক প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় জাতীয় কমিটি ভূমি সেবায় হয়রানি বন্ধে জবাবদিহি নিশ্চিতের আশ্বাস দিলেন ভূমিমন্ত্রী রাসিকে যোগদান করলেন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম নাচোলে সাংবাদিকদের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত প্রশাসক রিটনের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসে রাজশাহী নগরীর উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে ৫ দিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্রীড়াকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে : মিনু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের বৈঠক তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার : মিলন

রাজশাহী মহানগরীতে পুরাতন তিনতলা ব্রিকের ভবন হয়ে গেলো ঝুঁকিপূর্ণ ৬ তলা!

Paris
Update : রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ড অন্তর্গত হোসেনীগঞ্জ এলাকায় একটি তিনতলা ভবনকে পর্যায়ক্রমে ৬ তলায় উন্নীত করায় ভীতি আর ঝুঁকিতে পড়েছেন ভবন সংলগ্ন বসবাসকারিরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকির আশঙ্কা আরো বেশি বৃদ্ধি করেছে কলামবিহীন ব্রিকের তৈরি পুরাতন ভবনের কারণে। অভিযুক্ত ভবন মালিক অত্যন্ত ক্ষমতাধর হবার কারণে ঝুঁকির মধ্যে থেকে স্থানীয়রা পারছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে। তবে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকজন ঐ ভবন মালিককে নিষেধ করলেও তিনি কথা শোনেন নি। উপরন্তু, নিষেধ করাতে উল্টো হজম করতে হয়েছে হুমকি ধামকি আর দাম্ভিকতার আচরণ। ১৭৬ নম্বর বাড়িটি একটি ছাত্রী ছাত্রীনিবাস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বহু বছর ধরে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, ভবনটি প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে তিন তলা বিল্ডিং হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ভবনমালিক ক্রমান্বয়ে বাড়াতে থাকে ফ্লোরের সংখ্যা। এখন সেটি ছয় তলার একটি বিশাল ভবন।

ভবনটি নির্মাণকালেও নিয়মানুযায়ী ছাড়া হয়নি জায়গা। পাশর্^বর্তী অন্য একটি ভবনের (দক্ষিণের বিল্ডিং) গা ঘেঁষে উঠেছে উপরের দিকে। এছাড়াও ছাত্রীনিবাসটির উত্তরের চারতলার নিম্নাংশে বিশাল জায়গা নিয়ে নতুন প্লাস্টারের চিহ্ন আছে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে. তিনতলা থেকে চারতলা করার কয়েখ বছর পরেই ঐস্থানে ফাটলের মতো চিহ্ন দেখা দেয়। পরে বিল্ডিং মালিক সেখানে প্লাস্টার করায়। বিম আর ব্রীকের বাড়ি হলেও ভবনটিতে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক এসি মেশিন। এতে করে পুরাতোন ভবনের স্থায়ীত্বের উপর কিছুটা প্রভাব ফেলে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। অভিযোগের সতত্যা স্বীকার করে ভবন মালিক এনায়েতুর রহমান এনায়েত বলেন, ভবনটি আমার বাবা করেছিলেন। এটা আমাদের পৈত্রিক বাড়ি। এখন সেটি ‘জাহানে তুর নেসা মহল’ ছাত্রীনিবাস হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর না দিয়ে, তিনি উল্টো প্রতিবেদককে বলেন, কে দিয়েছে অভিযোগ? নামটা বলেন। আমি তো শুধু ভবনের জানালার কাজ করছি। জানালাগুলো থাইগ্লাসে রূপান্তর করছি। তবে, সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনটির পাঁচতলার ছাদের উপর নির্মিত ছয়তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি ভবনের বেশকয়েকটি জানালায় থাইগ্লাস স্থাপনের কাজও চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই আপনি কেনো তিনতলা ব্রিকের বাড়িটি ছয় তলায় উন্নীত করেছেন জানতে চাইলে, তিনি প্রশ্নের টু দ্যা পয়েন্ট প্রতুত্তোর না দিয়ে বলেন, আপনি আমার চেম্বারে আসেন। আমি আপনাকে আমার হোসনিগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে যায়। আপনি গিয়ে আমার সাথে আমার বাড়িটা দেখে আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন আমি দেখে এসেছি বলাতে তিনি তাৎক্ষণিক কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, আপনার যা ইচ্ছে লিখেন। পারলে আমি জবাব দেবো।

স্থানীয়রা জানান, ভবন মালিকের কেউ এখানে থাকেনা। তারা বড়কুঠি এলাকায় নতুন ও অত্যাধুনিক একটি বাড়িতে বসবাস করেন। বহুবছর ধরেই ব্রিকের তৈরি এই পুরাতন ভবনটা ছাত্রীনিবাস ব্যবহার হচ্ছে। হার্ডওয়্যার ও স্যানেটারি ব্যবসার মতো ছাত্রাবাস এদের অন্যতম পৈত্রিক ব্যবসা। নগরীজুড়ে বেশ কয়েকটি মেসের মালিক এই পরিবার। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, বিল্ডিংটি ৩ তলা থেকে চারতলা করার সময় ভবন মালিক কথা দিয়েছিলেন আর উপরের দিকে বাড়াবেন না। পরবর্তীতে সেটিকে উন্নীত করলো পাঁচ তলায়। স্থানীয়দের বাধারমুখে ভবন মালিক বলেছিলেন, ভয় করেন না, আমি পাঁচতলার উপর আর করবোনা। তারপর বছর না যেতেই সেই অবৈধ পাঁচতলা উপরে নির্মাণ করেন ছয়তলা। আবারো বাধারমূখে পড়েন ভবন মালিক এনায়েত। তখনও নানাকৌশলে পার পেয়ে যান স্থানীয়দের  রোষানল থেকে। সেবার তিনি কথা দিয়েছিল, ভবন ঝুঁকিমুক্ত রাখতে ছয়তলার উপরে ঢালাই ছাদ দেয়া হবেনা। কিন্তু কয়েকমাস পরে জানালাগুলোতে থাইগ্লাস স্থাপনের কথা বলে ছয়তলার সেই টিনের ছাদটি ঢালাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিন তলার বিমের বিল্ডিং এখন ছয় তলার ভবন।

এ বিষয়ে, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী কামরুজ্জামান বলেন, বিম বা ব্রিকের বাড়ি সাধারণত তিন তলার হয়। এরবেশি হলে ঝুঁকিতো থাকবেই। আর ছয়তলায় উন্নীত করাতো সম্ভবই না। তবে আমরা এটা অবগত না বা কেউ তাদের কাছে অভিযোগ করেন নি। জানতে চাইলে ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জানান, কলাম ছাড়া ২ তলা বিল্ডিং তৈরি করা সম্ভব। শুধু দুইতলা না, চার তলা পর্যন্তও করা সম্ভব। কিন্তু সেক্ষেত্রে দেয়ালগুলো মোটা হতে হবে, আর দেয়াল মোটা থাকার কারণে নিচে ফাউন্ডেশনও সেই অনুপাতে বেশি হতে হবে। তিন বা চারতলা করলে খেয়াল রাখতে হবে ভবনের নিচের মাটির কন্ডিশন ছাড়াও বিল্ডিং ব্যবহারকালে সেটির উপর কি পরিমাণ লোড পড়বে সেটিও খেয়াল রাখতে হবে নির্মাণকালে। কলাম ব্যতীত শুধু বিমের ভবনে যদি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ভারি যন্ত্রাংশ বসানো হয়, কিংবা মাত্রাতিরিক্ত মানুষ বসবাস করে তবে সেটির স্থায়ীত্ব স্বাভাবিক কারণেই হ্রাস পাবে।  প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে নির্মিত কলামবিহীন শুধু বিম ও ব্রিকের বাড়ি উপরের দিকে বৃদ্ধি করাটা শুধু বোকামি নয়, বসবাসকারিদের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণও বটে। কারণ বিগত কয়েক বছর ধরে মৃদু, স্বল্প ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত আনছে। যার কারণে পুরনো ভবন উপরের দিকে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি মেনে সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়াটাই ভাল বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের। শুধু অর্থের লোভে খেয়ালখুশি মতো পুরাতন ভবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন (উপরের দিকে বৃদ্ধিকরণ) ঘটানো শুধুমাত্র ঐ ভবনে বসবাসকারি মানুষগুলোই নয়; আশেপাশের ছোট ছোট বাড়িগুলোকেও ফেলতে পারে ঝুঁকির মধে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris