সর্বশেষ সংবাদ

ইবির সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামালের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Paris
Update : বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৩

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অবৈধ নিয়োগে জড়িত থাকার অভিযোগে কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাত্তার ও উপ-পরিচালক আবদুর রউফ। -এফএনএস

অধ্যাপক আবদুস সাত্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ইবির সাবেক উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিনের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে আবদুর রউফকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার (গ্রেড-১, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এজাহারে বলা হয়, ২০০৯ সালে নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদের জন্য আবেদন করেন আবদুর রউফসহ ২০ জন প্রার্থী। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যাচাই সাপেক্ষে চারজন প্রার্থীর অনুকূলে মৌখিক পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করা হয়। ওই নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি অনুযায়ী গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট বাছাই বোর্ডে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ড. আবদুস সাত্তার। সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত খালেদুর রহমান টিটো এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। বাছাই বোর্ড তিনজন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেয়। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শর্তানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়/সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে আবদুর রউফের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাছাই বোর্ড অবৈধভাবে তাকে ওই পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি অনুযায়ী ওই নিয়োগের বিষয়টি যবিপ্রবির চতুর্থ রিজেন্ট বোর্ড সভায় উপস্থাপিত হলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় আবদুর রউফকে বিজ্ঞাপিত সহকারী পরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বিপরীতে সেকশন অফিসার গ্রেড-১ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগের জন্য সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে সেকশন অফিসার গ্রেড-১ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদটি বিজ্ঞাপিত না হওয়া সত্ত্বেও ড. আবদুস সাত্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে থেকে এবং ওই রিজেন্ট বোর্ডের সভাপতি হয়ে আবদুর রউফকে ওই পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। এর মাধ্যমে তাকে ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বেতনভাতা বাবদ মোট ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার সুযোগ করে দিয়ে সরকারের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান বলেন, এটা যেহেতু যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়, তাই আমরা কিছু বলতে পারছি না। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে হয় তাহলে ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে। বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের এখতিয়ারে নেই। দুদক যশোর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল-আমিন বলেন, প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়ার পর গতবছর থেকে দুদক যশোর অফিসের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান ও রেকর্ডপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় এজহারে উল্লিখিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয় এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris