মঙ্গলবার

১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রচণ্ড গরমে নগরীতে সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প ডোর’র বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন রাজশাহী বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন রাজশাহীর ডিসি জীবিকার তাগিদে একসময়ের যাত্রার নায়ক সামাদের কাঁধে এখন দোতারা রাজশাহীকে বাসযোগ্য শহর গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ

আজ রাজধানীতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৩

এফএনএস
সরকারের পদত্যাগের ‘এক দফা’ দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা দেয় বিএনপি। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে রাজধানীতে শান্তি সমাবেশের ডাক দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিন সংগঠন- যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ। দুটো কর্মসূচিরই নির্ধারিত দিন আজ বৃহস্পতিবার। বিএনপি ও সমমনা জোটের সরকার হটানোর আন্দোলনের যুগপৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ‘শান্তিপূর্ণ’ এ মহাসমাবেশ বলে গত শনিবার বিকালে ঘোষণা দেন বিএনপি মহাসচিব। পরে গত সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ-পশ্চিম গেটে জড়ো হবেন, দুপুর ১টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, বিকাল ৩টা থেকে শুরু হবে সমাবেশ। তবে গতকাল বুধবার রাত আটটায় এই প্রতিবেদ তৈরি পর্যন্ত জানা যায় যে কাউকেই সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফারুক হোসেন জানান, বিএনপিকে গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। অন্যদিকে বায়তুল মোকারমের দক্ষিণ ফটক না পেয়ে গুলিস্থানের মহানগর নাট্যমঞ্চে (কাজী বশির মিলনায়তন) সমাবেশ করতে চাইছিল যুবলীগ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ করতে আমাদের মৌখিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত অনুমতি পাইনি। এখানে অনুমতি না পেলে আমরা মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এদিকে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি কোথায় সমাবেশ করব। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে সমাবেশ করার অনুমতি এখনও মেলেনি। এদিকে অনুমতি না পেয়ে স্থান নির্ধারণে গতকাল বুধবার বিকেল বৈঠকে বসে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তবে এ বৈঠকটি ভার্চুয়াল ছিল। মূলত গতকাল বুধবার বিকেলের পর থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। দলের নেতাকর্মীরা দ্রুত কার্যালয় ছেড়ে চলে যান। শুধু কার্যালয়ের ভেতরেই নয়, মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদেরও নয়াপল্টন ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। বিএনপি কার্যালয় সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতাকর্মীদের আটক করতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই কার্যালয় ফাঁকা করার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিকেলে দলটির স্থায়ী কমিটির সভা শেষ করেই মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষনেতারা দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। তবে কার্যালয়ের অভ্যন্তরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দপ্তরের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মহাসমাবেশের স্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলটি। বৈঠকে সিংহভাগ স্থায়ী কমিটির সদস্য গোলাপবাগে সমাবেশ না করার বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বৈঠকের পর থেকেই সিনিয়র নেতারা দলীয় কার্যালয় ছেড়ে যান এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নেতাকর্মীরাও নয়াপল্টন এলাকা ত্যাগ করতে থাকেন। কার্যালয়ের প্রধান ফটকে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী জানান, দলীয় কার্যালয়ে কোনো নেতাকর্মী নেই, সবকিছু বন্ধ। বাইরে থেকেও কাউকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেতাকর্মীদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, এদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অদূরে দুইপাশে অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি দেখা গেছে। একই সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান। সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাসমাবেশ থেকে সরকারকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়ার কথা ভাবছেন বিএনপি নেতারা। সঙ্গে থাকছে ঢাকা মহানগরকেন্দ্রিক লাগাতার কর্মসূচি। তবে শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচি নিয়ে সরকার হার্ডলাইনে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিএনপি কর্মসূচি ঠিক করবে। বিষয়টি নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। একই সাথে আন্দোলনে ঢাকা ৩৫ দলের নেতারাও নতুন কর্মসূচি ব্যাপারে অন্ধকারে রয়েছেন।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris