রবিবার

৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি তানোরে যেভাবে প্রাণ গেলো ৭টি গরুর তানোরে খাল পুনঃখনন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী প্রধানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর

Paris
Update : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আরা ডেস্ক : মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ শাসক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে আটকের পর দেশজুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। সোমবারের এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনায় চলে এসেছেন মিয়ানমারের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং।

১৯৬২ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রায় ৫০ বছর ধরে সামরিক শাসনের অধীনে ছিল মিয়ানমার। ২০০৮ সালে মিয়ানমারের সংবিধানের প্রণয়নে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে দেশটির রাজনীতিতে পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নেয় সামরিক বাহিনী। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের ২৫ শতাংশ আসন সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত করা হয়। প্রতিরক্ষা ও সরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতাও দেওয়া হয় সামরিক বাহিনীকে। অং সান সু চি সহ দেশটির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাই দেশটির সামরিক জান্তার বিরোধিতার কারণে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন।

২০২১ সালে সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন। সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে তিনি ২০১১ সালের ৩০শে মার্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি মিয়ানমারের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা কাউন্সিলেরও (এনডিএসসি) সদস্য। মিন অং এর আগে মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম চিফ অব স্টাফ ছিলেন। ২০১১ সালের গোড়ার দিকে চার তারকা এবং ২০১৩ সালের মার্চে পাঁচ তারকাপ্রাপ্ত জেনারেল পদে আসীন হন। পদমর্যাদায় তিনি মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্টের সমতুল্য। মিন অং বার্মার তাভয় (বর্তমানে দাউই, মিয়ানমার) শহরে ১৯৫৬ সালের ৩রা জুলাই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবা থাং হ্লেইং একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, যিনি নির্মাণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করতেন।

২০০৮-২০০৯ পর্যন্ত তার পদবি ছিল মেজর জেনারেল, ২০০৯ এর শেষভাগ পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন, ২০১১ এর প্রথম দিকে জেনারেল, ২০১২ এর প্রথম দিকে উপ-সিনিয়র জেনারেল এবং ২০১৩ সালে সিনিয়র জেনারেল হন। ২০০৯ সালে কোকাঙে বিদ্রোহী মিয়ানমার ন্যাশনালিটিস ডেমোক্র্যাটিক আলিয়ঁস আর্মির বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনার পর তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।২০১০ সালের জুন মিন অং জেনারেল শ্ব মানকে সরিয়ে সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ৩০ শে মার্চ তিনি সিনিয়র জেনারেল থান শ্বয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ হন।

২০১১ সালের নভেম্বরে দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে মিন অং হ্লাইংয়ের বৈঠক হয় এবং চীনাদের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে চীনাদের সাথে আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দেন। কাচিন সংঘাতের বিষয়ে চীনের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট শি- জিনপিং এর সাথেও তিনি আলোচনায় অংশ নেন বলে পত্রিকাটি জানায়। ২৭শে মার্চ ২০১২ তে নাইপিদোতে এক বক্তৃতার সময় তিনি জাতীয় রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর অব্যাহত ভূমিকার উল্লেখ করেন। পরের মাসের ৩ তারিখেই মিন অং-কে ভাইস-সিনিয়র জেনারেল হিসাবে পদোন্নতি দেওয়ার ঘোষনা দেয় মিয়ানমার সরকার।

এটি মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। ২০১৩ সালের মার্চে তিনি সিনিয়র জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব বদলের কথা থাকলেও আরও পাঁচ বছরের জন্য নিজের মেয়াদ বাড়িয়ে নেন মিন অং। সেসময় থেকেই সামরিক পরিচয়ের বাইরেও নিজেকে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দেন। সংসদে ২৫ শতাংশ সংরক্ষিত আসন বাদ দেওয়ার অথবা সংবিধানের ধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে অং সান সু চি’র প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ উন্মোচনের ব্যাপারে কখনোই আগ্রহ ছিল না তার।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris