শাহানুর রহমান রানা
রাজশাহী মহানগরীর আহম্মদনগর এলাকায় এক নারীকে উপকারের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে দেনমোহরানার কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে ক্ষতিগ্রস্থ ঐ নারীর বন্ধুদের নামে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১-০৩-২০২৩ ইং তারিখ গভীররাতে। ক্ষতিগ্রস্থ দাবিদার ঐ নারী অভিযুক্তদের কাছে থাকা তার দেনমোহরের অর্থ ফেরত পাবার আশায় একাধিকবার প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান তিনি। অবেশেষে গত ২৩-০৩-২০২৩ তারিখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সোহরাওয়ার্দী জানান, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর আরিফকে নির্দেশন দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্থর করা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে থানায় করা লিখিত অভিযোগটি বিভ্রান্তিকর। কিছুটা বানোয়াটও বটে। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিং করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি অভিযুক্তদের। ঐ নারীর সাথে স্বামীর তালাক কাজ সম্পন্ন হওয়াসহ দেনমোহরানা পরিশোধ সম্পর্কে প্রাক্তন স্বামী ভবানিগঞ্জ নিবাসী আবু বক্কর সিদ্দিক ও পৌরসভা মেয়র বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।
ক্ষতিগ্রস্থ ঐ নারীর দেয়া তথ্য ও থানায় করা লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বন্ধুদের হেফাজতে থাকা নিজের দেনমোহরের টাকা ফিরে পেতে প্রথমে তিনি রাসিক কার্যালয়ে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবগত করলে সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেয়া হয়। সে মোতাবেক, টাকা উদ্ধারের আশায় গত ২৩-০৩-২০২৩ ইং তারিখে পাঁচজনের নাম উল্লেখ্যপূর্বক আরএমপি’র বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে মোট পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন ঐ নারী। ক্ষতিগ্রস্থ দাবিদার ঐ নারী তার পাঁচজন বন্ধুর নাম উল্লেখ্যপূর্বক আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করে জোরপূর্বক টাকা কেড়ে নেবার অভিযোগ তোলেন। অভিযুক্তরা হলো, আনোয়ার হোসেন আনান, শুভ ইসলাম, শামিম, জুবায়ের হোসেন ও ফারিয়া। এদিকে ডিভোর্স সংক্রান্ত সকল কাজ সম্পন্ন সাপেক্ষে দেনমোহরনার টাকা নিয়ে ভবানীগঞ্জ থেকে রাজশাহী শহরের উদ্দেশ্যে তারা রওনা দেয় গত ২১-০৩-২০২৩ ইং তারিখ রাত্রি আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটের দিকে। পথিমধ্যে দেনমোহরের টাকা আবারো ভাল করে গুণে দেখার নাম করে গাড়িতে থাকা একবন্ধু ওই নারীর কাছে সমস্ত টাকা নিজের হস্তগত করার অপচেষ্টা করলে বৃষ্টি তাদের হাতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা একত্রিত হয়ে গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে তার হাতে থাকা হ্যান্ড ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ঐদিন মধ্যরাতে নগরীর আহম্মদনগর এলাকার ওয়াসা অফিসের সামনে ঝগড়াবিবাদের একপর্যায়ে ওই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে পরে কথা হবে বলে মাইক্রোবাস নিয়ে স্থান ত্যাগ করে বন্ধুরা। কিন্তু অভিযুক্তরা বলছেন, টাকা ফেরত দিতে চাইলেও সে বিশেষ একটি কারণ দেখিয়ে টাকা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। কি সেই বিশেষ কারণ জানতে চাইলে বিষয়টি তারা আর খোলাশা করে বলেন নি। এদিকে, ওই নারী জানান, পরবর্তী সময়ে বন্ধুদেরকে একাধিকবার ফোন দিয়ে তাদের হস্তগত হওয়া আমার দেনমোহরানার সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত চাইলে ভাগবাটোয়ারা আর সহোযোগিতা করার বিপরীতে সম্মানিবাবদ (উপঢৌকন) মাত্রাতিরিক্ত অর্থের দাবি করে এবং আমি রাজি না হওয়াতে সমপূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে তারা অস্বীকৃতি জানায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।