রাজশাহী সিটিতে আবারো নৌকার মেয়র প্রার্থী লিটন

Paris
Update : রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

আরা ডেস্ক
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী প্রায় চুড়ান্ত হয়েছে। দুই বারের সফল মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন আবারো মেয়র পদেই নির্বাচন করবেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষত শেষে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানান খায়রুজ্জামান লিটন।
সূত্র মতে, রোববার (০৯ এপ্রিল) দুপুরে গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। দুপুর ২টার দিকে তিনি গণভবন থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে রাজশাহীর নেতৃবৃন্দকে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে কে নির্বাচন করবেন তা নিয়ে আলোচনার জন্য দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন খায়রুজ্জামান লিটন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী সিটিতে খায়রুজ্জামান লিটনকে আবারো মেয়র পদে নির্বাচন করতে বলেছেন। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, এবারও আমি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করছি। সোমবার দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবো এবং মঙ্গলবার জমা দিবে। এর পর রাজশাহী ফিরে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচার প্রচারণা শুরু করবো।
এদিকে, দেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন রাজশাহী নগরীর রুপকার ও স্বপ্নের ফেরিওয়ালা খ্যাত এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন এবার মেয়র পদে নির্বাচন করছেন কি না এ নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে আলোচনা চলছিল। কেউ বলছিলেন তিনি মেয়র নির্বাচন করবেন আবার কেউ বলছিলেন এবার তিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করবেন। এ নিয়ে তিনি নিজেও কিছু বলেন নি এতোদিন। তিনি শুধু বলেছেন দলীয় প্রধান তাকে যেখানে চাইবেন সেখানে নির্বাচন করবেন। তবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের গুটিকয়েক নেতা খায়রুজ্জামান লিটনকে এমপি পদে মনোনয়ন এবং সিটিতে বিতর্কিত এক নেতাকে প্রার্থী করার চেষ্টা চালিয়েছেন। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধানের কাছেও না প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে গুনজন ছিল। মূলত: এসব কারণে মেয়র লিটন এবার সিটিতে নির্বাচন করছেন কি না তা নিয়ে দিধায় ছিলে নেতাকর্মীরা। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আপাতত রাজশাহী সিটিতে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের বিকল্প নেই। আমার জানা মতে, দলীয় প্রধান তার (লিটন) প্রার্থীতা চুড়ান্ত করেছেন। তাকে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন, যেহেতু দলীয় প্রধান তার (লিটনে) কথা বলেই দিয়েছেন সে ক্ষেত্রে আর কারও দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে রাজশাহীসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। রোববার প্রথম দিনে ১৭ মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান। রোববার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনীতির কার্যালয়ে এই মনোনয়নের আবেদন ফরম বিক্রি শুরু হয়। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে প্রথম দিনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ৭টি, খুলনা সিটি করপোরেশনের জন্য ১টি, বরিশাল সিটি করপোরেশনের জন্য ৪টি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য ৫টি। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জন্য প্রথম দিনে কেউ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি। তবে চতুর্থবারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। রোববার দুপুরে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করে বেরিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, “আজ দলীয় সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। এবারও আমি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন করছি। সোমবার দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করব এবং মঙ্গলবার জমা দেব। এর পর রাজশাহী ফিরে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচার শুরু করবো বলেন খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘‘মেয়র লিটন ওমরাহ করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। শনিবার তিনি দেশে ফিরেছেন। রোববার দুপুরে গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন লিটন। দুপুর ২টার দিকে তিনি গণভবন থেকে বের হয়ে আসেন। এর পর তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে রাজশাহীর নেতাদের জানান।’’
উল্লেখ্য স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছেলে খায়রুজ্জামান লিটন ২০০৮ সালে প্রথমবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এই নেতা।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris