চৌবাড়িয়ার ফারিহা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ

Paris
Update : রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৩

তানোর প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী চৌবাড়িয়া হাটের ফারিহা ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগণষ্টিক সেন্টারে কথিত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক কথিত চিকিৎসক ও এক সময়ের মুরগী ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন শেখ গা-ঢাকা দিয়েছেন।
জানা গেছে, তানোরের সীমান্তবর্তী মান্দার ভারশোঁ ইউপির চৌবাড়িয়া ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যার প্রসব বেদনা দেখা দিলে স্বজনেরা তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়ার প্রস্ত্ততি নেয়।কিন্ত্ত ক্লিনিকের দালালের প্রলোভনে পড়ে তারা প্রসূতিকে চৌবাড়িয়া ফারিয়া ক্লিনিকে নিয়ে যায়। স্বজনদের অভিযোগ, এসময় ক্লিনিক মালিক ও কথিত চিকিৎসক ফারুক শেখ প্রসূতির সিজার করানোর কথা বলে নিজেই দুজন নার্স নিয়ে প্রসূতির প্রসব করানোর চেষ্টা করে। কিন্ত্ত ঘন্টা খানিক চেষ্টার পর ব্যর্থ হলে ফারুক এসে বলেন প্রসূতির বড় সমস্যা এখানে সিজার করা যাবে না তাকে দ্রুত রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে প্রসূতির স্বজনেরা অপেক্ষা করতে চাইলেও ফারুক এক প্রকার জোর করেই তাদের এ্যাম্বুলেন্সে (মাইক্রো) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ক্লিনিক থেকে রওয়ানা দেবার পর পরই প্রসূতির মৃত্যু হয় বলে জানান নিহতের স্বজনেরা। চৌবাড়িয়া বাজারের শরিফুল, রমজান আলী ও খোকন জানান, চৌবাড়িয়া বাজারের ফারিহা ক্লিনিকে মাঝে মধ্যেই শোনা যায় প্রসুতির অপারেশন করতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যায়। কিন্ত্ত বার বার তারা টাকা-পয়সা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়।এবারো হয়তো সেটাই হবে। তবে তারা দ্রুত অবৈধ ফারিহা ক্লিনিক বন্ধ ও ফারুক শেখকে আটকের দাবি জানান। এছাড়াও ক্লিনিকের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি করে বিক্রি করে বলেও এলাকার লোক মুখে আলোচনা রয়েছে।
আলোচনা থাকলে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। এবিষয়ে জানতে চাইলে ফারিহা ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ফারুক হোসেন শেখ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভুল চিকিৎসা নয়, রক্ত স্বল্পতা ও দুর্বলতার জন্য প্রসূতিকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বলেন, আসলে হায়াত-মউতের উপর কারো হাত নাই। এবিষয়ে নিহতের স্বজনেরা জানান, তারা থানায় অভিযোগ করতে চাই, কিন্ত্ত ফারুকের ভয়ে থানায় যেতে পারছেন না।
প্রসঙ্গত, এ ঘটনার আগেও মান্দা উপজেলার মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের কন্যা সানজিদা খাতুন (১৪) পেটের ব্যথা নিয়ে ফারিহা ক্লিনিকে ভর্তি হয়। ক্লিনিক মালিক ফারুক শেখ তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে জানান সানজিদার এপেন্টিসাইটিস ধরা পড়েছে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে বলে তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করায়। পরবর্তীতে চিকিৎসক পরিচয়ে ক্লিনিকের মালিক-কর্মচারী সানজিদার এপেন্টেসাইটিস অপসারণ করতে গিয়ে ভূল করে সন্তান ধারণের নাড়ি অপসারণ করায় তার মৃত্যু হয়েছিল। ফারিহা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) বলেন, তারা এখানো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris