প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বাংলদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিসিক শিল্পনগরী, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মঠপুকুর সংলগ্ন মাঠে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বিসিক-ঐক্য উদ্যোক্তা মেলা-২০২১ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মেলা আয়োজন করেছে আমি তার জন্য বিসিক ও ঐক্য ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। মেলা আয়োজন করে করোনা ক্ষতিগ্রস্থ সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিসিক। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতিতেও বিসিকের ৭৬ টি শিল্পনগরীতে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন অব্যাহত ছিল বলে দেশে খাদ্যদ্রব্যের কোন ঘাটতি দেখা দেয়নি।
ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী বলেন, বাংলাদেশের ৮০ লক্ষ কটেজ, মাইক্রো ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের পাশে আছি আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিয়ে, এই সেক্টরের উন্নয়নে।
আমরা বিশ্বাস করি উন্নয়নের জন্য এস এম ই। সামনের বাংলাদেশ, বিশ্বজয় করা বাংলাদেশ। গ্রীন প্রোডাক্ট, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং কোটি পণ্যে বিশ্বের প্রথম সারির দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোক্তা বান্ধব অনেক দুরদর্শী একজন বিশ্বনেতা। শিল্পে অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শিল্পে শক্তিশালী একটি দেশ হিসেবে এস এম ই‘র উন্নয়নে প্রতিনিয়ত, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কে সারা বিশ্বে মাথা উচু করে পরিচয় করিয়ে দিতে, বিশ্বমানের এস এম ই পণ্য ও সেবার পরিচয়ে আমাদের নিরন্তর কর্ম ও প্রচেষ্টা। আসুন আমরা সকলে মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই।
বিসিক চেয়ারম্যান মোঃ মোশতাক হাসান বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিশন ঘোষণা দিয়েছেন। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শিল্পোন্নত বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছেন, বাস্তবে তিনি শিল্প বিপ্লবের ঘোষণা দিয়েছেন। ভিশন-২০১৪ লক্ষ্য অর্জনে বিসিক কর্তৃক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের জিডিপি‘তে শিল্পখাতের অবদান ৩৫ শতাংশ, এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অবদান রয়েছে ২৫ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অবদান ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে এবং শিল্পের অবদান ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৪০শতাংশে উন্নীত করতে হবে।
সেই লক্ষ্যে বিসিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিসিক রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ মামুনুর রশিদ। অনুষ্ঠানে রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী সহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মেলায় ৭০টি স্টলে সিল্কের শাড়ি- কাপড়, থ্রিপিচ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হস্ত ও কুটির শিল্পজাত বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাদ্য সামগ্রী, প্রসাধনী, বুটিক, বাটিকসহ বিভিন্ন দেশিয় পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন উদ্যোক্তাগণ। মেলাতে বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের তৈরি হস্ত ও কুটির শিল্পজাত পণ্য ও মধু বিক্রয় করা হবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উম্মুক্ত থাকবে।