এফএনএস : ‘(জওহরলাল) নেহরুর ভারত এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, দেশটির লোকসভার অর্ধেক সদস্য ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত’Ñসিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লংয়ের এমন বক্তব্যে ভারতজুড়ে ছড়িয়েছে উত্তাপ। এরইমধ্যে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তলব করেছে ভারতে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূত সাইমন ওংকে। খবর রয়টার্সের। এদিকে, জওহরলাল নেহরুকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটি বলেছে, তাদের নেতা আজও বিশ্বনেতাদের অনুপ্রাণিত করেন।
গত বুধবার সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লংয়ের দেওয়া বক্তব্যের দুটি বিষয় ভারতে উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলোÑলোকসভার সদস্যদের নিয়ে দেওয়া তথ্য-বক্তব্য। ভারতীয় লোকসভার অর্ধেক সদস্য ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্তÑএমন বক্তব্য মানতে নারাজ দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো দুই বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত থাকার তথ্য দিয়ে এসেছে।
এর মধ্যে কোনো কোনোটি বলেছে, বিজেপির ৫৫ ভাগ এমপির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছে, ৩৬৩ জন এমলএ ও এমপির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে, যার মধ্যে বিজেপির ৮৩ জন। অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রাটিক রিফর্মের জরিপ বলছে, ভারতের ৪৩ শতাংশ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা রয়েছে। যার মধ্যে বিজেপির সংসদ সদস্য ১১৬ এবং কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ২৯ জন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যেও ৩০ ভাগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ছিল, যার ১৩ ভাগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছিল অপহরণ ও হত্যা মামলা।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লংয়ের বক্তব্যের পরপরই গত বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রতিবাদ জানায় ভারত। বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে ভারতে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূত সাইমন ওংকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলবও করা হয়। জানানো হয় ক্ষোভ ও অসন্তোষ। এদিকে, জওহরলাল নেহরুকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস। টুইটে তারা বলছে,নেহরুর মহানুভবতা আজও বিশ্বনেতাদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।