এফএনএস : গৃহস্থালি নিপীড়ন রোধে নতুন এক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘স্মার্টওয়াটার’ ব্যবহারের পর প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তার জেল হয়েছে। স্মার্টওয়াটার একটি বিশেষ তরল যা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির নিচে দেখা যায়। এই প্রযুক্তিটি নিয়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় কি না, সেটাই পরীক্ষা করে দেখছে দেশটির পুলিশ। স্প্রে করার পর এই ফরেনসিক তরল শরীরে ছয় সপ্তাহের মতো এবং কাপড়ে আরও বেশিদিন লেগে থাকে। এ ছাড়া ব্যাচ নম্বর দেখে জানা যাবে, কোন ব্যাচের স্মার্টওয়াটার নিক্ষেপ করা হয়েছে।
প্রতিটি ব্যাচ সম্পূর্ণ আলাদা। সম্প্রতি যে ঘটনায় এক অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হয়, ওই ঘটনার ভুক্তভোগী নারী পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের বাসিন্দা। তিনি ২০০ জনের একজন, যাদের এই স্মার্টওয়াটার প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। স্মার্টওয়াটারের প্যাকেজটিতে হাত দিয়ে ধরার জন্য একটা ক্যানিস্টারসহ স্প্রে থাকে। ফলে দরজা ও হ্যান্ডেলে লাগানো থাকে বিশেষ জেল। কেউ ঘরে ঢুকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের গায়ে স্প্রে করা হয়। পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের পুলিশ কর্মকর্তা ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট লি বেরি এই সর্বপ্রথম এম নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা ভাবেন।
বিবিসিকে তিনি জানান, বেশির ভাগ সময় পারিবারিক নির্যাতনের দোষীদের খুঁজে বের করা দুস্কর। কেননা, এসব অপরাধের বেশির ভাগই বন্ধ দরজার ভেতরে ঘটে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ফরেনসিকের মাধ্যমে কাউকে শনাক্ত করতে পারি, তাহলে আমরা অপরাধীকে অনুসরণ করতে পারব। আমরা জানতে পারব, কে অপরাধী আর কে ভিকটিম।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা অপরাধীদের পরিষ্কার বলতে চাই, যদি কেউ ওই ঠিকানায় যান এবং শর্তগুলো ভাঙেন, তাহলে তাকে ফরেনসিকের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে।’
পশ্চিম ও দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার এবং স্ট্যাফোর্ডশায়ারের পুলিশ এই কিট ব্যবহার করছে। এক মাসে একজনের জন্য একটি কিটের খরচ পড়বে দেড়শ পাউন্ডের মতো। স্মার্টওয়াটার প্রতিনিধি র্যাচেল ওকলে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে মুখ ঢেকে রাখার কারণে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়; কিন্তু একবার এক ফোঁটা স্মার্টওয়াটার দিয়ে চিহ্নিত হলেও অনেক দিনের জন্য তাকে সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব।