চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ : তথ্যমন্ত্রী
এফএনএস : চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন পাবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ৭ জানুয়ারি সরকারের দ্বিতীয় বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ভ্যাকসিন নিয়ে সরকার ধুম্রজাল সৃষ্টি করছে- বিএনপির যুগ্মসচিব রিজভী আহমেদের এ বক্তব্যের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে যে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছিল, তা একটি ভুল সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে। সেটি সিরাম ইনস্টিটিউট ও ভারতের স্বাস্থ্য সচিব নিরসন করে দিয়েছেন।
এরপরও যারা এসব কথা বলেন, আসলে তারা জনগণের মনে প্রথম থেকেই যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় রিজভী আহমেদসহ বিএনপির নেতারা এসব কথা বলছেন। বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী যথাসময়ে ভ্যাকসিন পাবে। মির্জা আবদুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমতো মির্জা আবদুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটির ব্যাখ্যা তিনি এরইমধ্যে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি নোয়াখালীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন। সারা দেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি কোনো কথা বলেননি।
তিনি বিবৃতি দিয়ে এটা জানিয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মির্জা আবদুল কাদেরের বক্তব্যে আমি মনে করি, আমাদের দলের মধ্যে যে গণতন্ত্র আছে, যে কেউ তার অভিমত ব্যক্ত করতে পারেন, সেটারই বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং এটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা যেটা হচ্ছে, সেটার ব্যাখা তিনি যেমন দিয়েছেন, একইসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে যে কেউ অভিমত ব্যক্ত করতে পারেন। এ রকম অভিমত আমাদের দলের মধ্যে বহুজন বহু আগেও ব্যক্ত করেছেন। তিনি যেহেতু আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের ছোট ভাই, সেজন্য তারটা বেশি প্রচার হয়েছে। এটিই শুধু ভিন্নতা। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বিএনপি বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি অন্যদিন করতে পারতো। ৯ জানুয়ারি বা ১১ জানুয়ারি করতে পারতো। আর বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে তাদের যে জোটসঙ্গী জামায়াত আছে, যারা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বিরোধিতা করেছিল দলগতভাবে। এমনকী পাকিস্তানের পক্ষে লড়াই করেছিলে। তাদের নিয়ে ১০ জানুয়ারি বিক্ষোভ করা মানে তারা যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না সেটি সত্য বলে শিকার করে নিল। হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি এ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের স্বাধীনতা ১০ জানুয়ারি পূর্ণতা পায়। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়নি।
যেদিন আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে, সেদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা মানে তারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে তারা যে বিশ্বাস করে না সেটিরই বহিঃপ্রকাশ। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন তারা বৃহত্তর ঐক্য নিয়ে মাঠে নামবে। সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বৃহত্তর ঐক্য তারা গত নির্বাচনের আগেও করেছিল। ডান, বাম, অতি বাম, অতি ডান, প্রতিক্রিয়াশীল এবং ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সবাইকে নিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা চেষ্টা করেছিল সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে। দেখা গেলো সেই ঐক্য কাচের গ্লাসের মতো ভেঙে গেছে।
যে দলগুলো একত্র হয়েছিল সেই দলগুলোর আভ্যন্তরীণ ঐক্যই নেই। বিএনপির ভিতরেই ঐক্য নেই। আমি মির্জা ফখরুল সাহেবকে অনুরোধ জানাবো অতীতেও তারা বৃহত্তর আন্দোলন করেছে কিন্তু তাতে তারা ফল পাননি। তাই নিজের দলের ঐক্যটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করাই শ্রেয়।
