নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সাত মাস ফুরালেও বহাল তবিয়তে সংঘাত চলেছে। ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ৪০ দিনের যুদ্ধ থামলেও এরপরও বিচ্ছিন্নভাবে শত্রুতা অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তীতে যে কোনো সম্ভাব্য স্থল হামলা মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের প্রস্তুত করতে একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করেছে ইরান। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই বলছে, শনিবার রাজধানী তেহরানের হাফত-ই তির স্কয়ারে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই কেন্দ্রের লক্ষ্য আগামী কয়েক সপ্তাহে বেসামরিক নাগরিকদের বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেনাসদস্যরা ছদ্মবেশের রঙ করা বিমানবিধ্বংসী সরঞ্জাম নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারা বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং অস্ত্র ব্যবহারের অনুশীলনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট ব্যবহার করছেন। বাসিজ সংগঠনের প্রশিক্ষণবিষয়ক উপপ্রধান আলী কোসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রশিক্ষণের জন্য ১ হাজার ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরো সমাজে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে কোসারি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি আবার কোনো ‘ভুল হিসাব’ করে হামলা চালায়, তাহলে ইরানিরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার মোকাবিলা করবে। এদিকে ইরানি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আলিয়ান-নেজাদ জানিয়েছেন, ‘জানফাদা’ নামের এই কর্মসূচিটি তেহরানের নির্ধারিত তিনটি কেন্দ্রে শুরু হবে। এই উদ্যোগের অধীনে বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক সামরিক দিকনির্দেশনা দিতে ইরানের সেনাবাহিনীর চারটি শাখার সদস্যদেরই নির্ধারিত ফিল্ড-ব্যারাক কেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন করা হবে। আলিয়ান-নেজাদের মতে, অংশগ্রহণকারীরা প্রথমে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাবেন। পরে তুলনামূলক অ্যাডভান্সড কোর্সে অংশ নেবেন। দেশের সুরক্ষার প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের যেন কাজে লাগানো যায়, সে উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণকারী বেসামরিক নাগরিকদের মৌলিক সামরিক জ্ঞান প্রদানই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তবে এই কোর্সগুলোর মেয়াদ কত দিন হবে, এতে আনুমানিক কতজন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেবেন কিংবা পরবর্তীতে এই কর্মসূচি তেহরানের বাইরে সম্প্রসারিত করা হবে কি না; সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অতর্কিতে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সামরিক শক্তিবর্ধনের লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। এর অংশ হিসেবে সাধারণ নাগরিকদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক আহ্বান করেছিল দেশটি। সেই ডাকে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ সাড়া দিয়েছে বলে জানায় ইরান সরকার। এর মধ্যে অন্তত ৬ লাখ স্বেচ্ছাসেবক ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ সামরিক চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করতে পারে বলে জানা গেছে।-এফএনএস
