এফএনএস : দেশে টানা তিন দিন ধরে করোনায় দৈনিক রোগী শনাক্তের হার দুই শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু কমলেও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে তার আগের ২৪ ঘণ্টায় তুলনায়। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩৩৯ জন, যা আগেরদিন গত রোববার ছিল ৩১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন। গত রোববার ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার চলতি বছরে প্রথম দিনের মতো দৈনিক শনাক্তের হার নেমে আসে দুই শতাংশের নিচে। সেই ধারা অব্যাহত থাকে গত রোববারও। সেই সঙ্গে গতকাল সোমবার তৃতীয় দিনের মতো দেশে করোনায় রোগী শনাক্তের হার দুই শতাংশের নিচে ছিল, যদিও রোববারের তুলনায় কিছুটা বাড়ে শনাক্তের হার। অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার এক দশমিক ৮০ শতাংশ, গত রোববার ছিল এক দশমিক ৭৪ শতাংশ, আর তার আগের দিন (গত শনিবার) ছিল এক দশমিক ৮৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হওয়া ৩৩৯ জনকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মোট শনাক্ত হলেন ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮২৭ জন।
সোমবারের ১০ জনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন মোট ২৭ হাজার ৭৭৮ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৫০৯ জন, তাদের নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৭১ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৯ হাজার ১৬টি, আর পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৮১২টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি এক লাখ ১৩ হাজার ৭৩৪টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৭৪ হাজার ৬৩৮টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ২৭ লাখ ১৩ হাজার ৯৬টি।
দেশে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬১ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে পুরুষ চার জন আর নারী ছয় জন। দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৭৯৩ জন, নারী ৯ হাজার ৯৮৫ জন। বয়স বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তিন জন।
বাকিদের মধ্যে ৪১ থেকে ৫০ বছর ও ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন দুই জন করে। ২১ থেকে ৩০ বছর, ৩১ থেকে ৪০ বছর আর ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন একজন করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকা আর খুলনা বিভাগের আছেন তিন জন করে, চট্টগ্রাম বিভাগের দুই জন আর রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের আছেন একজন করে। মারা যাওয়া ১০ জনেরই মৃত্যু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে।