তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভবনাময় গোছানো ভোটের মাঠ নস্টের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে একশ্রেণীর বগী (অ্যাকামা) নেতা। অধিকাংশক্ষেত্রে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র তকমা লাগিয়ে বিদ্রোহী হয়ে নৌকাডুবির পরিকল্পনা করছে। অভিযোগের তীর উঠেছে উপজেলা সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল-মামুনের দিকে। এদিকে এখবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমুলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ ও নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া তো পরের কথা শক্ত প্রতিদন্দীতায় করতে পারবেন না এটা নিশ্চিত হয়েও কথিত সেভেনস্টারের মদদে একশ্রেণীর নেতা স্বতন্ত্র তকমা লাগিয়ে বিদ্রোহী হয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় গোছানো মাঠ নষ্ট করছে।
প্রার্থীতার ফরম উত্তোলন করে কথিত গণসংযোগের নামে এরা এমপিবিরোধী বলয় সৃষ্টির অপতৎপরতা ও জামায়াত-বিএনপির বিজয়ের পথ সুগম করতে কাজ করছে বলে গুঞ্জন বইছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ দেশের সর্ববৃহত রাজনৈতিক দল। এই দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা ও দলীয় মনোনয়ন পাবার মতো অনেক যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে, তবে মনোনয়ন তো পাবেন এক জন। মনোনয়ন বোর্ড ও দলের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে যোগ্য মনে করেছেন তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হলো যারা স্বতন্ত্রের দোহায় দিয়ে বিদ্রোহী হতে চাই তারা তো সরাসরি দলের সভাপতি ও প্রধামন্ত্রীর বিরোধীতা করছে।অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হওয়া সম্ভব ?
দু’একটা বিচ্ছিন্ন বা কাকতালীয় হতে পারে সেটাকে স্বাভাবিক ঘটনা বিবেচনা করে যারা বিজয়ী হবার স্বপ্ন দেখছেন তারা তো রাজনৈতিক অবার্চীন। কারণ নৌকার বাইরে গিয়ে অনেক রথী-মহারথী রাজনৈতিক নেতা রাজনৈতিক জোকারে পরিনত হয়েছে। এদিকে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা বলছে, এরা কথিত গণসংযোগের নামে তৃণমুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছে, সেভেনস্টারের মদদে আওয়ামী বিরোধীদের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের বি-টিম হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃস্টির পাঁয়তারা করছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচনে বিজয়ী হতে গেলে প্রার্থীর যে ধরণের জনসমর্থন, কর্মী বাহিনী, আর্থিক স্বচ্ছলতা ইত্যাদি প্রয়োজন তা তাদের নাই।
তাহলে তারা কি বিবেচনায় স্বতন্ত্রের আড়ালে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ের প্রত্যাশা করছে।এতে তো বেগুনের চেয়ে বিঁচি বড় সেই প্রবাদকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, এরা নিজেও জানেন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দীতা করার মতো সক্ষমতা তাদের নাই, প্রার্থী হবার বগী আওয়াজ দিয়ে নিজ দলের প্রতিপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাকে বসে আনা, আবার প্রত্যাহার করে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়া, পাশাপাশি দলে কোন্দল সৃস্টি করে বিরোধী পক্ষের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা আদায় করা একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।