মোহনপুর প্রতিনিধি : রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলায় সুদ ব্যবসায়ীদের দাপটে সর্বশান্ত হয়ে পথে বসছে অনেক পরিবার। দিন দিন বদলাচ্ছে সুদ ব্যবসার কৌশল। নিজস্ব জমির দলিল, সোনার গহনা, সরকারী, বেসরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের চেক বন্ধকের বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে সুদের টাকা। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে মোটা অংকের টাকা উঠিয়ে তা ডিজঅনার স্ট্যাম্পে লিখে মামলা দেয়া হচ্ছে সুদ গ্রহীতার নামে। এ কারণে মোহনপুর উপজেলার প্রতিটি ব্যাংকে বেড়ে চলেছে চেক ডিজ অনারের সংখ্যা। প্রতি সপ্তাহে সুদের টাকা পরিশোধ করতেই নাভিশ্বাস হয়ে উঠে সাধারণ মানুষের। তখনতো মূল টাকা থেকে যায় বহুদুরে। এই সুযোগে সুদ ব্যবসায়ীরা ভুক্তভোগির জমি জায়গা দখল, রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া এখন মোহনপুরে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।
কিন্তু সুদ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াচ্ছেনা কেউ। তারা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের ভয়ে কেউ কথা বলেনা এবং ভুক্তভোগিরাও পাচ্ছেনা আইনী সহায়তা। আপনি কোথায় সুদের টাকা খরচ করবেন সেটার উপর নির্ভর করে সুদের হার। মাদকে লগ্নি করলে সুদ বেশী আর সংসারে খরচ করলে সুদ কম। থানায় অভিযোগ ও এলাকাবাসী সুত্রে সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে মোহনপুরসহ আশেপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নে। উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুলপাড়া গ্রামের সাত্তার মন্ডলের ছেলে আব্দুল হালিম (৩৮) করোনার মধ্য কাজ হারিয়ে সাংসারিক প্রয়োজনে গত মার্চ মাসে ৫০ হাজার টাকা সুদ গ্রহন করেন হরিপুর পূর্বপাড়া এলাকার মৃত মকছেদ আলীর ছেলে চিহ্নিত সুদ ব্যবসায়ী রিন্টু’র কাছ থেকে। ৫০ হাজার টাকায় প্রতি সাপ্তাহে সুদ দিতে হবে ৫ হাজার টাকা।
তিন মাস পর সুদসহ স্থানীয় মীমাংসার মাধ্যমে সুদসহ মোট ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার সময় ৫ হাজার টাকা দিতে পারেনি আব্দুল হালিম। সেই ৫ হাজার টাকার বর্তমান সুদ ৩৫ হাজার টাকা। ১০ অক্টোবর রোববার সকালে আব্দুল হালিম বাড়ি হতে গরু কেনার জন্য ২লাখ টাকা নিয়ে রাজশাহী সিটি বাইপাস হাটে যান। দামে দরে গরু পছন্দ না হওয়ায় তিনি টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিকাল ৫টার সময় জৈনক আফজাল-এর বাড়ির নিকট পৌঁছামাত্র সুদে কারবারি রিন্টু সাজ্জাদ হোসেন ও তার সহযোগীরা মিলে তাকে জোর পূর্বক উঠিয়ে বাড়িতে আটকে রেখে মারধোর করে ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়াসহ ৩’শ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করে বাড়ি হতে ছেড়ে দেয়।
১০ অক্টোবর রাতে এ ব্যাপারে মোহনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম। এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীদের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, কয়েকজন চিহ্নিত সুদ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট মিলে গোটা এলাকার মানুষের শান্তির ঘুম হারাম করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসি। এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।