সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে কুপিয়ে জখম, হত্যার হুমকি, মামলা না নেয়ায় আতঙ্কে পরিবার মালয়েশিয়া থেকে চীনে প্রধানমন্ত্রী, সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশায় বেইজিং রামেবি আয়োজিত সেমিনারে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ তানোরের কাশিমবাজার-বায়া রাস্তা সংস্কার মান নিয়ে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত রাজশাহী নগরীতে নারীসহ ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার নওগাঁয় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সাপাহারে বাড়িতে ঢুকে দম্পতির ওপর হামলা

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত নিরপেক্ষ হবে : নেহাল আহমেদ খাঁন

Paris
Update : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

শাহানুর রহমান রানা : গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কক্ষে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উর্দ্ধতনদের দৃষ্টিগোচর হয়। ঘটনার সাথে জড়িত উভয় পক্ষ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর পরের দিনই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টির সুষ্ঠ তদন্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি পাঠানো হয় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সভাকক্ষে তদন্ত কার্য পরিচালনা শুরু করেন গতকাল সোমবার সকাল থেকেই।

উক্ত তদন্ত কমিটিতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কমিটির সমন্বয়ক ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ খাঁনকে প্রধান করে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন ও মাউশির হিসাব ও নীরিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে। ঘটনার সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়াও অন্যদের বক্তব্যও নেয়া হয় এক এক করে।

রাজশাহীতে আগত সেই উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটির সাথে দৈনিক আমাদের রাজাশাহী পত্রিকার প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে সাক্ষাৎকালে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ খাঁন নিরপেক্ষতার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন, ‘আমাদেরকে কোন পক্ষ কোনভাবেই প্রভাবিত করতে পারবেনা।’ তিনি আরো বলেন, উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাগুলোও আমাদের কাছে আছে। এছাড়া তিনি আরো জানান, উক্ত ঘটনার সাথে যারা সম্পৃক্ত ও প্রত্যক্ষদর্শী তাদের প্রত্যেকের বক্তব্যই শুধু শোনা হবে না; বস্তুনিষ্ঠতার জন্য প্রতিটি বক্তব্যের বিপরীতে কাগজীয় ডকুমেন্টও আমাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। আমরা কারো ‘মিত্র না, আবার শত্রুও না’।

তাই তদন্ত নিয়ে কারো দুশ্চিন্তা করার কোন অবকাশ এখানে নেই। ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করার পর সেটি নিয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ সাপেক্ষে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার আশ্বাস প্রদান করেন তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ খাঁন। তিনি দৈনিক আমাদের রাজশাহীকে আরো বলেন, এই ধরনের ঘটনা বিব্রতকর। সরকার আমাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেবাগ্রহীতাদেরকে নিরঙ্কুশভাবে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে। নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, আন্তঃকোন্দল, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ যদি চলতেই থাকে তবে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজের গতি হ্রাস পাবে, ঠিক তেমনি সুনাম ক্ষুণ্ন হবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের। সেবাগ্রহীতারা আমাদের জন্য কেনো ভুক্তভোগী হবেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ঢাকা বোর্ডে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার কোন সুযোগই নাই। কারণ, সেখানে কর্মরতদের সকলেই বোর্ডের নিয়মনীতি ও বিধিবিধান মান্য সাপেক্ষেই সকল কাজ সম্পাদন করেন। আর এটাই হওয়া উচিত।

আমাদের সকলকেই বোর্ডের অর্ডিন্যান্স ও সরকারি নিয়মনীতি মেনেই চলতে হবে। চাকুরী করতে এসে নিজের মন মতো চলা স্বাভাবিক কাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি আরো বলেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কক্ষে ঘটে যাওয়া সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব মহাদয় এর দৃষ্টিগোচর হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে সোমবার আমরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসেছি। তিনি আরো বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে সত্য বিষয়গুলোই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে ডকুমেন্ট আকারে উপস্থাপন করা হবে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সকল কিছু বিশ্লেষণ সাপেক্ষে চুড়ান্ত একটি সিদ্ধান্ত নেবেন।

নেহাল আহমেদ খাঁন বলেন, শিক্ষা বোর্ডের একজন গার্ড থেকে সর্বোচ্চ কর্মকর্তা চেয়ারম্যান পর্যন্ত চেইন অব কমান্ড মানতে বাধ্য। এটাই নিয়ম। প্রমাণ ব্যতীত আমাদের কাছে কোন কিছুই গ্রহণযোগ্য না বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক নেহাল আহমেদ খাঁন। উক্ত তদন্ত কমিটিকে শিক্ষা ক্যাডার সমিতির মাধ্যমে কিছুটা লবিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে বলার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি প্রধান নেহাল আহমেদ খাঁন বলেন, বিষয়টির কোন সত্যতা নেই। কারণ, শুধু শিক্ষা ক্যাডার সমিতি কেনো আমাকে এবং আমাদের এই তদন্ত কমিটিকে কেউই কোনভাবেই প্রভাবিত করতে পারবে না।

তথ্য প্রমাণ ও উপাত্তই বলে দেবে তদন্তের প্রতিবেদন কোন দিকে যাবে। তিনি পরিশেষে, শিক্ষা বোর্ডের সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সকলেই এখানে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। তাই নিয়ম শৃঙ্খলা বহির্ভূত কোন কাজে কখনোই লিপ্ত হওয়া যাবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অক্লান্ত চেষ্টা ও ত্যাগ এবং তদসাথে শহীদ মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন না হলে আমরা আপনারা কেউই এই কর্মকর্তার আসনে আসীন হতে পারতাম না। তাই, বিশৃঙ্খলা পরিহার করে দেশকে ভালবাসুন। নিজের দায়িত্ব, কর্তব্য ও সেবা প্রদানে মনোনিবেশ করুন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris